পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন: ধারা-ভিত্তিক পাঠ
দৈনন্দিন কাজে আপনি বিধি (PPR) ধরে চলেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ হলে — রিভিউ প্যানেলে, নিরীক্ষায় বা আদালতে — প্রশ্নটি ফিরে যায় আইনের ধারায়। এই পাতায় PPA ২০০৬-এর কাঠামো, ক্রয়কারীর জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো, এবং ২০২৬ সালের সংশোধনীতে যা বদলেছে — সবই এক জায়গায়।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ২৪ নং আইন) মোট ৭৩টি ধারা, সাজানো ৯টি অধ্যায়ে। ২০২৬ সালে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪১ নং আইন) এতে ৩০টি সংশোধন এনেছে — সম্মতির তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬, কিন্তু কার্যকর ধরা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে, অর্থাৎ PPR ২০২৫ গেজেটভুক্ত হওয়ার একই দিন থেকে।
আইনের ৯টি অধ্যায়
| অধ্যায় | ধারা | বিষয় |
|---|---|---|
| প্রথম | ১–৪ | প্রাথমিক বিষয়াদি — সংজ্ঞা, প্রযোজ্যতা, আইনের প্রাধান্য |
| দ্বিতীয় | ৫–৮ | দরপত্র বা প্রস্তাব প্রস্তুত, উন্মুক্তকরণ কমিটি, মূল্যায়ন কমিটি, অনুমোদন |
| তৃতীয় | ৯–৩০ | ক্রয় সংক্রান্ত নীতিসমূহ — APP, দলিল, প্রতিযোগিতা, গোপনীয়তা, রেকর্ড, অভিযোগ |
| চতুর্থ | ৩১–৩৬ | পণ্য, কার্য ও ভৌত সেবার ক্রয় পদ্ধতি ও উহার প্রয়োগ |
| পঞ্চম | ৩৭–৩৯ | বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা ক্রয় পদ্ধতি |
| ষষ্ঠ | ৪০–৬৩ | ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ — বিজ্ঞাপন থেকে চুক্তি স্বাক্ষর |
| সপ্তম | ৬৪ | পেশাগত অসদাচরণ, অপরাধ ইত্যাদি |
| অষ্টম | ৬৫ | সরকারি ক্রয়ে ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতির ব্যবহার (e-GP) |
| নবম | ৬৬–৭৩ | বিবিধ — কনসেশন চুক্তি, সরল বিশ্বাসে কৃত কাজের রক্ষণ, বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা |
ক্রয়কারীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি ধারা
- ধারা ৪ — আইনের প্রাধান্য। অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যা-ই থাকুক, এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর হবে। সংস্থার নিজস্ব প্রবিধান বা পুরোনো অফিস-আদেশ PPA-র বিপরীতে গেলে তা অনুসরণযোগ্য নয়।
- ধারা ১১(৫) ও (৬) — প্যাকেজ ভাঙা। সুবিধার্থে প্যাকেজ ভাঙা যায়, কিন্তু অনুমোদনের এখতিয়ার নির্ধারিত হবে সব প্যাকেজের মোট অর্থের ভিত্তিতে — আলাদা প্যাকেজের অঙ্ক দেখে নয়। নিরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আপত্তি এখানেই। APP ও প্যাকেজ গঠন →
- ধারা ৩১(১)(ঙ) — সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতা ও SLT। ২০২৬ সালে ধারাটি সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপিত। এর শর্তাংশ অনুযায়ী, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম মূল্য (significantly low price) উদ্ধৃত হলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সেই নিম্নদর মূল্যায়ন করতে হবে — অর্থাৎ তফসিল-১৮। SLT মূল্যায়ন →
- ধারা ৩২(১)(ঙ) — বিপরীত নিলাম। ২০২৬ সালে যুক্ত একটি সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি, যেখানে সম্ভাব্য সরবরাহকারীরা প্রকৃত সময়ে (real time) ক্রমান্বয়ে কম দরে প্রতিযোগিতা করেন। ক্রয় পদ্ধতিসমূহ →
- ধারা ৬৪ — অসদাচরণ ও অযোগ্য ঘোষণা। উপ-ধারা (৫) অনুযায়ী ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান কোনো ব্যক্তিকে বর্তমান বা ভবিষ্যতের ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন — ডেবারমেন্ট ব্যবস্থার মূল উৎস। ২০২৬ সালে উপ-ধারা (৩)-এ শৃঙ্খলা বিধির উল্লেখ ১৯৮৫ থেকে বদলে ২০১৮ করা হয়েছে। অভিযোগ ও ডেবারমেন্ট →
- ধারা ৬৫ — e-GP। ২০২৬ সালে উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত: ই-জিপি পোর্টালে প্রক্রিয়াযোগ্য সকল সরকারি ক্রয় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করিতে হইবে; ব্যতিক্রমের জন্য বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদন লাগবে, এবং সকল ক্রয় পরিকল্পনা আবশ্যিকভাবে e-GP-তে প্রকাশ করতে হবে।
২০২৬ সালের সংশোধনীতে যা বদলাল
| বিষয় | পরিবর্তন |
|---|---|
| আইনের উদ্দেশ্য | “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা”-র সঙ্গে যুক্ত হলো অর্থের সর্বোত্তম মূল্য, দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণগতমান ও টেকসই ক্রয় |
| নতুন সংজ্ঞা | ক্রয় কৌশল, টেকসই সরকারি ক্রয়, নিষ্পত্তি (disposal), বিপিপিএ, সেবা প্রদানকারী; ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের সংজ্ঞা প্রতিস্থাপিত |
| ধারা ১১ ও ১২ | APP এখন ক্রয় কৌশল অনুসরণে প্রণীত হতে হবে; আদর্শ দলিল নির্ধারণ করবে বিপিপিএ |
| ধারা ১৫ ও ১৬ | কারিগরি বিনির্দেশে টেকসই ক্রয়ের উপাদান; শ্রমিকের মজুরি, পেশাগত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা ও শিশু শ্রম-বিরোধী বিধানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ শর্ত নিষিদ্ধ |
| ধারা ২১(১) | নির্ধারিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বের চুক্তিতে কৃতকার্য দরদাতার প্রকৃত মালিকানার তথ্য (beneficial ownership)-সহ চুক্তি-তথ্য বিপিপিএ-র পোর্টালে প্রেরণ করতে হবে |
| ধারা ৩৬ | ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট এখন বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবাতেও; অন্য ক্রয়কারীর সম্পাদিত এগ্রিমেন্টের আওতায়ও ক্রয় করা যাবে |
| ধারা ৩৯(২) | সরকারের নিজস্ব অর্থে IT সেবার আন্তর্জাতিক প্রস্তাব আহ্বানে দেশীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগের অংশীদার করতে হবে |
| ধারা ৪৯(১) | “অনধিক ৩ কোটি টাকা”-র জায়গায় বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট মূল্যসীমা; ভৌত সেবার মূল্যায়নে নেগোসিয়েশনের নতুন সুযোগ (দফা গ) |
| ধারা ৫৬(২) | পরামর্শকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় “৪ থেকে ৭ জন”-এর জায়গায় বিধি দ্বারা বর্ণিত প্রয়োজনীয় সংখ্যা |
| ধারা ৬৭ | বিলুপ্ত — বিপিপিএ-র পরিবীক্ষণ-কর্তৃত্ব এখন আসে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইন, ২০২৩-এর ধারা ৪ থেকে |
ধারা ৬৭ নিয়ে একটি সূক্ষ্ম বিষয়। PPR ২০২৫-এর বিধি ৬০(১)-এ এখনও “আইনের ধারা ৬৭-এর অধীন” লেখা আছে, অথচ ২০২৬ সালের সংশোধনী ধারাটি বিলুপ্ত করেছে — এবং দুটোই কার্যকর একই তারিখ থেকে। ক্রয়কারীর দায়িত্বে এতে কোনো পরিবর্তন হয় না; রেকর্ড সংরক্ষণ ও তথ্য সরবরাহের বাধ্যবাধকতা বিধি ৬০ ও ৬২-তে অবিকৃত আছে। গেজেট উদ্ধৃত করার সময় হুবহু লিখুন, কিন্তু আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে হলে BPPA আইন ২০২৩ উল্লেখ করুন।
আইন না বিধি — কোনটি কোথায় খুঁজবেন
| আপনার প্রশ্ন | উত্তর যেখানে |
|---|---|
| “এটি করার ক্ষমতা আমার আছে কি?” | আইন — যেমন ধারা ৬৪(৫) |
| “কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করব?” | আইন পদ্ধতি ঠিক করে (ধারা ৩১–৩২), বিধি শর্ত ও মূল্যসীমা দেয় |
| “কত দিন সময় দিতে হবে?” | বিধি ও তফসিল |
| “কোন ফরমে লিখব?” | বিধি ও STD |
| “কে অনুমোদন দেবেন?” | আইন কাঠামো দেয় (ধারা ৮, ১১(৬)), সংস্থার DOP অঙ্ক দেয় |
| “লঙ্ঘন হলে কী হবে?” | আইন — ধারা ৬৪ |
হালনাগাদ বাংলা পাঠ পাওয়া যায় bdlaws.minlaw.gov.bd ঠিকানায় — “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬” এবং “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬” দুটি আলাদা শিরোনামে। এই সাইটে সংশোধনীর বিস্তারিত বিশ্লেষণ আছে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন পাতায়, এবং আর্থিক সীমা ও অনুমোদন স্তর আছে থ্রেশহোল্ড পাতায়।
PPA ২০০৬-এর ধারা-ভিত্তিক পাঠ, ২০২৬ সংশোধনী ও সম্পূর্ণ ধারা-সূচি — সম্পূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা, বিধির উদ্ধৃতি ও চেকলিস্টসহ “e-GP ক্রয়কারীর নির্দেশিকা” বইয়ে।
ক্রয়কারী ম্যানুয়ালের সব পাতা
- ক্রয়কারীর ২০টি ভূমিকা
- লগইন, পাসওয়ার্ড ও My Account
- PPA ২০০৬ ও সংশোধনী ২০২৬ এই পাতা
- ওয়ার্কফ্লো ইঞ্জিন
- PE User
- Authorized User (AU)
- Authorized Officer (AO)
- HOPE — ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান
- Secretary ও Minister
- উন্মুক্তকরণ কমিটি (TOC)
- মূল্যায়ন কমিটি (TEC)
- External Evaluation Committee
উৎস ও দাবিত্যাগ। এই পাতাটি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (BPPA/CPTU) দাপ্তরিক e-GP System User Manual সিরিজ, Public Procurement Act ২০০৬ ও Public Procurement Rules ২০২৫-এর ভিত্তিতে তৈরি একটি স্বাধীন শিক্ষামূলক গাইড — এটি BPPA-র দাপ্তরিক প্রকাশনা নয়। পোর্টালের সংস্করণ সময়ে সময়ে হালনাগাদ হয়; কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে দাপ্তরিক বিধি ও ম্যানুয়ালই চূড়ান্ত। দাপ্তরিক ভিডিও টিউটোরিয়াল: vt.eprocure.gov.bd।
