ই-জিপি রেজিস্ট্রেশন — নতুন দরদাতাদের সাধারণ ভুল
e-GP সিস্টেমে দরপত্র জমা দিতে হলে প্রথমেই eprocure.gov.bd-এ নিবন্ধিত দরদাতা হতে হয়। প্রক্রিয়াটি সরল হলেও কিছু সাধারণ ভুলের কারণে নতুন ব্যবহারকারীরা প্রায়ই আটকে যান।
e-GP পোর্টালে দরদাতা হিসেবে ড্যাশবোর্ড অ্যাক্সেস পেতে হলে প্রথমে eprocure.gov.bd-এ একটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় — ট্রেড লাইসেন্স, TIN, নিবন্ধন সনদ, অনুমোদনপত্র, পরিচয়পত্র ও ছবিসহ নির্ধারিত নথি আপলোড করে, নির্ধারিত মেম্বার ব্যাংকের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করে। এই "পোর্টাল রেজিস্ট্রেশন" কিন্তু তালিকাভুক্তি (Enlistment)-এর মতো নয় — নিচে পার্থক্যটি স্পষ্ট করা হলো। প্রতিটি ধাপের (NID যাচাই, বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ তথ্য, ফি পরিশোধ) বিস্তারিত স্ক্রিন-বাই-স্ক্রিন বিবরণের জন্য দেখুন সম্পূর্ণ A-Z নিবন্ধন গাইড →।
রেজিস্ট্রেশন ফি কত
| দরদাতার ধরন | নিবন্ধন ফি | বার্ষিক নবায়ন ফি |
|---|---|---|
| জাতীয় দরদাতা (National Tenderer) | ৳ ৫,০০০ | ৳ ২,০০০ |
| আন্তর্জাতিক দরদাতা (International Tenderer) | ৳ ১২,০০০ | ৳ ৫,০০০ |
| ব্যক্তি পরামর্শক (Individual Consultant) | বিনামূল্যে | বিনামূল্যে |
ফি eprocure.gov.bd কর্তৃক তালিকাভুক্ত সিডিউলড ব্যাংকের মাধ্যমে নগদ, পে-অর্ডার বা অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয় — ব্যাংক লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে যায়।
রেজিস্ট্রেশনের মূল ধাপ ও প্রয়োজনীয় নথি
- eprocure.gov.bd-এ "Tenderer Registration" অপশনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল তৈরি করা
- নিবন্ধন/অন্তর্ভুক্তি সনদ (Incorporation Certificate), হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, TIN সার্টিফিকেট স্ক্যান করে আপলোড করা
- প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আবেদনকারীর অনুমোদনপত্র (Authorization Letter) ও পরিচয়পত্র/পাসপোর্টের কপি যুক্ত করা
- নিবন্ধন ফি জমার রশিদ (স্লিপ) ও পাসপোর্ট-সাইজ ছবি আপলোড করা
- নির্ধারিত মেম্বার ব্যাংকের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা
- BPPA/সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের অপেক্ষা করা
প্রয়োজনীয় নথির তালিকা ব্যবহারকারীর ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় — জাতীয়/আন্তর্জাতিক দরদাতা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি পরামর্শক ও সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি প্রতিটির জন্য পৃথক নথির চাহিদা আছে।
সবচেয়ে সাধারণ ভুল
- নথির স্ক্যান কপি অস্পষ্ট বা মেয়াদোত্তীর্ণ — ট্রেড লাইসেন্স নবায়িত না থাকলে আবেদন আটকে যায়।
- প্রতিষ্ঠানের নাম ভিন্ন ভিন্ন নথিতে ভিন্নভাবে লেখা — ট্রেড লাইসেন্স, TIN ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নামের বানান হুবহু না মিললে ভেরিফিকেশনে সমস্যা হয়।
- ভুল ব্যাংক শাখার তথ্য দেওয়া — ফি পরিশোধ ট্র্যাক করতে সমস্যা হতে পারে।
- ইমেইল/মোবাইল নম্বর সক্রিয়ভাবে চেক না করা — OTP বা ভেরিফিকেশন নোটিফিকেশন মিস হয়ে যায়।
ভেরিফিকেশন ধাপ আটকে গেলে করণীয়
যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও রেজিস্ট্রেশন অনুমোদিত না হয়, তাহলে সরাসরি e-GP হেল্প ডেস্কে (১৬৫৭৫ / helpdesk@eprocure.gov.bd) যোগাযোগ করে আবেদনের রেফারেন্স নম্বর দিয়ে অবস্থা জানতে চাওয়া উচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ হয় অসম্পূর্ণ নথি বা তথ্যের অসামঞ্জস্য।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন হতে কত সময় লাগে?
রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কি টেন্ডার নোটিশ দেখা যায়?
রেজিস্ট্রেশন ও তালিকাভুক্তি (Enlistment) কি একই জিনিস?
সম্পর্কিত পাতা
তথ্যসূত্র
- National e-GP Portal — eprocure.gov.bd
- e-GP System Release Notes
সর্বশেষ হালনাগাদ: মার্চ ২০২৬ · টেন্ডার জমা দেওয়ার আগে সর্বদা eprocure.gov.bd-এর মূল নথি যাচাই করুন।
রায়হান খান গত ১০ বছর ধরে সরকারি ক্রয় ক্ষেত্রে কাজ করছেন — বাংলাদেশজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত, পর্যালোচনা ও জমা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশে ই-প্রকিউরমেন্ট শুরুর একদম প্রথম দিন থেকেই তিনি ই-জিপি সিস্টেমে হাতে-কলমে কাজ করে আসছেন এবং পূর্ববর্তী PPR 2008 থেকে বর্তমান PPR 2025 পর্যন্ত, টেন্ডার ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন মানদণ্ড, এবং NCT ও ICT উভয় পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রতিদিন যে অনুসন্ধান-জনিত ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা দূর করতেই তিনি ই-জিপি বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
