ই-জিপি টেন্ডারে জয়েন্ট ভেঞ্চার (JV) অংশগ্রহণের নিয়ম — ই-জিপি বাংলা
Book About Tenders Services SLT Calculator Blog Contact
ব্লগ · দরপত্র প্রস্তুতি
দরপত্র প্রস্তুতি

ই-জিপি টেন্ডারে জয়েন্ট ভেঞ্চার (JV) অংশগ্রহণের নিয়ম

লিখেছেন রায়হান খান · মার্চ ২০২৬ · ৬ মিনিট

বড় মূল্যের টেন্ডারে যোগ্যতার শর্ত (অভিজ্ঞতা, টার্নওভার, সরঞ্জাম) একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পূরণ করা কঠিন হতে পারে — এক্ষেত্রে জয়েন্ট ভেঞ্চার (JV) গঠন করে যৌথভাবে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে।

Joint Venture JV দরপত্র প্রস্তুতি
সংক্ষিপ্ত উত্তর

জয়েন্ট ভেঞ্চার (JV) গঠন করে টেন্ডারে অংশ নিতে হলে একটি লিখিত JV চুক্তি (Joint Venture Agreement) প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি অংশীদারের দায়বদ্ধতা, মুনাফা-বণ্টন ও নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে — এবং এই চুক্তি টেন্ডার জমাদানের আগেই স্বাক্ষরিত হতে হয়।

JV কখন প্রয়োজন হয়

  • একক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বা টার্নওভার যোগ্যতার শর্ত পূরণে যথেষ্ট না হলে
  • বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা (যেমন নির্দিষ্ট ধরনের নির্মাণ প্রযুক্তি) অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে ভাগাভাগি করার প্রয়োজন হলে
  • ICT টেন্ডারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে স্থানীয় জ্ঞান একত্রিত করতে

প্রয়োজনীয় নথি

  • Joint Venture Agreement — সব অংশীদারের স্বাক্ষরসহ লিখিত চুক্তি, দায়বদ্ধতা ও মুনাফা-বণ্টনের অনুপাত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে
  • Power of Attorney — নেতৃত্বদানকারী (Lead) প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার-সংক্রান্ত সব যোগাযোগের জন্য ক্ষমতা অর্পণ
  • প্রতিটি অংশীদারের নিজস্ব ট্রেড লাইসেন্স, TIN ও অন্যান্য নিবন্ধন নথি

এখনও JV গঠিত না হলে — Letter of Intent বিকল্প

PPR 2025-এর বিধি ৭০(৩) অনুযায়ী, দরপত্র জমাদানের সময় পর্যন্ত যদি JV আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত না হয়ে থাকে, তাহলে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বদলে একটি বিকল্প গ্রহণযোগ্য: সকল অংশীদার কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি Letter of Intent (প্রস্তাবিত চুক্তিপত্রের খসড়াসহ) দরপত্রের সাথে জমা দেওয়া যায় — তবে শর্ত থাকে যে এই Letter of Intent অবশ্যই নোটারি পাবলিক কর্তৃক প্রমাণীকৃত (notarized) হতে হবে। টেন্ডার জেতার পরই পূর্ণাঙ্গ JV চুক্তি স্বাক্ষর করে জমা দিতে হয়।

যোগ্যতা মূল্যায়ন কীভাবে হয়

সাধারণত JV-এর যৌথ যোগ্যতা মূল্যায়নে প্রতিটি অংশীদারের অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতা তাদের চুক্তিতে উল্লিখিত অংশগ্রহণের অনুপাত অনুযায়ী গণনা করা হয় — তবে টেন্ডার ডকুমেন্টে নির্দিষ্ট নিয়ম (যেমন Lead Partner-এর ন্যূনতম অংশগ্রহণ) উল্লেখ থাকতে পারে, যা অবশ্যই আগে পড়ে নিতে হবে।

দেশীয় ও বৈদেশিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত JV

আন্তর্জাতিক টেন্ডারে দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান মিলে JV গঠিত হলে, বিধি ৭০(৮) অনুযায়ী যদি সেই JV-তে বাংলাদেশি নাগরিকদের অংশ ৫০% বা তার বেশি হয়, তবেই সেই JV স্থানীয় অগ্রাধিকার (Domestic Preference) পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে। এর কম হলে JV-টিকে বৈদেশিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই মূল্যায়ন করা হবে।

অংশীদার পরিবর্তন করা যায় কি?

একবার দরপত্র জমা দেওয়ার পর সাধারণত JV-এর অংশীদার পরিবর্তন করা যায় না। ব্যতিক্রম শুধু তখনই, যখন কোনো অংশীদার অযোগ্য প্রমাণিত হয় বা সামগ্রিক কার্যসম্পাদনে গুরুতর বিরূপ প্রভাব ফেলার মতো কোনো সমস্যা দেখা দেয় — বিধি ৭০(১০) অনুযায়ী সেক্ষেত্রেও শুধুমাত্র মুখ্য (Lead) অংশীদার ব্যতীত অন্য কোনো অংশীদার পরিবর্তন করা যায়, এবং নতুন অংশীদারকে বিদায়ী অংশীদারের চেয়ে সমান বা উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান প্রধানের (HOPE) পূর্বানুমোদন আবশ্যক।

সাধারণ ভুল

  • JV চুক্তি টেন্ডার জমাদানের সময়সীমার পরে স্বাক্ষর করা — এটি গ্রহণযোগ্য নয়
  • দায়বদ্ধতা (liability) স্পষ্টভাবে "যৌথ ও একক" (joint and several) হিসেবে উল্লেখ না করা
  • এক অংশীদারের তথ্য অন্য অংশীদারের অজান্তে ব্যবহার করা
  • Letter of Intent নোটারি প্রমাণীকরণ ছাড়াই জমা দেওয়া — এতে দরপত্রই বাতিল হয়ে যেতে পারে
  • ক্রয়কারীর অনুমোদন ছাড়াই অংশীদার পরিবর্তন করার চেষ্টা করা

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

JV-এর সব অংশীদারকেই কি e-GP-তে আলাদাভাবে নিবন্ধিত হতে হয়?
সাধারণত হ্যাঁ, প্রতিটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব e-GP নিবন্ধন থাকা প্রয়োজন, যদিও টেন্ডার জমা সাধারণত Lead Partner-এর মাধ্যমে হয়।
JV চুক্তি কি টেন্ডার-ভিত্তিক নাকি স্থায়ী হতে পারে?
উভয়ই সম্ভব — অনেক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট একটি টেন্ডারের জন্য আলাদা JV চুক্তি করে, আবার কিছু দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত JV গঠন করে।
দরপত্র জমার সময় JV চুক্তি সম্পূর্ণ না থাকলে কী করব?
বিধি ৭০(৩) অনুযায়ী নোটারি-প্রমাণীকৃত একটি Letter of Intent (প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়াসহ) সব অংশীদারের স্বাক্ষরে জমা দিতে পারবেন — জেতার পর পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

সম্পর্কিত পাতা

তথ্যসূত্র


সর্বশেষ হালনাগাদ: মার্চ ২০২৬ · টেন্ডার জমা দেওয়ার আগে সর্বদা eprocure.gov.bd-এর মূল নথি যাচাই করুন।

রায়হান খান
রায়হান খান
প্রতিষ্ঠাতা · প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ

রায়হান খান গত ১০ বছর ধরে সরকারি ক্রয় ক্ষেত্রে কাজ করছেন — বাংলাদেশজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত, পর্যালোচনা ও জমা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশে ই-প্রকিউরমেন্ট শুরুর একদম প্রথম দিন থেকেই তিনি ই-জিপি সিস্টেমে হাতে-কলমে কাজ করে আসছেন এবং পূর্ববর্তী PPR 2008 থেকে বর্তমান PPR 2025 পর্যন্ত, টেন্ডার ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন মানদণ্ড, এবং NCT ও ICT উভয় পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রতিদিন যে অনুসন্ধান-জনিত ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা দূর করতেই তিনি ই-জিপি বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।