টেন্ডার বাতিল বা পুনঃটেন্ডার হলে করণীয় — ই-জিপি বাংলা
Book About Tenders Services SLT Calculator Blog Contact
ব্লগ · প্রক্রিয়া
প্রক্রিয়া

টেন্ডার বাতিল বা পুনঃটেন্ডার হলে করণীয়

লিখেছেন রায়হান খান · মার্চ ২০২৬ · ৫ মিনিট

কখনো কখনো সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ও জমা দেওয়া দরপত্রও বাতিল হয়ে যায় — এটি দরদাতার কোনো ভুলের কারণে নয়, বরং ক্রয়কারী সংস্থার সিদ্ধান্তের ফল। এই পরিস্থিতিতে কী ঘটে এবং করণীয় কী তা জানা থাকা জরুরি।

টেন্ডার বাতিল পুনঃটেন্ডার Re-tender
সংক্ষিপ্ত উত্তর

টেন্ডার বাতিল হলে সব দরদাতার জমা দেওয়া টেন্ডার সিকিউরিটি সাধারণত সম্পূর্ণভাবে ফেরত দেওয়া হয়, এবং ক্রয়কারী সংস্থা প্রয়োজন হলে পুনরায় একই বা সংশোধিত শর্তে পুনঃটেন্ডার (Re-tender) আহ্বান করতে পারে।

কোন পরিস্থিতিতে টেন্ডার বাতিল হয়

  • প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব জমা না পড়া (যেমন মাত্র একটি প্রস্তাব জমা পড়া)
  • সব দরপত্রই প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি হওয়া
  • প্রকল্পের বাজেট বা সুযোগে (scope) মৌলিক পরিবর্তন হওয়া
  • টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম বা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া
  • ফান্ডিং সংস্থার অনুমোদন না পাওয়া (উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে থাকা প্রকল্পে)

বাতিল হলে সিকিউরিটির কী হয়

টেন্ডার বাতিল হওয়া দরদাতার কোনো ত্রুটির কারণে নয় বলে, এক্ষেত্রে জমা দেওয়া টেন্ডার সিকিউরিটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে ফেরত দেওয়া হয় — কোনো কর্তনের বিধান নেই।

পুনঃটেন্ডার (Re-tender) কীভাবে কাজ করে

বাতিলের কারণ অনুযায়ী ক্রয়কারী সংস্থা হয় হুবহু একই শর্তে, অথবা সংশোধিত স্পেসিফিকেশন/বাজেট/সময়সীমা নিয়ে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করতে পারে। পুনঃটেন্ডারে অংশ নিতে হলে সম্পূর্ণ নতুন প্রক্রিয়ায় — নতুন করে দলিল ক্রয়, নতুন টেন্ডার সিকিউরিটি জমা, এবং নতুন প্রস্তাব প্রস্তুত করেই অংশ নিতে হয়। পূর্বের জমা দেওয়া প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকে না।

দরপত্র জমার পর কি মূল্য নিয়ে নেগোসিয়েশন করা যায়?

সাধারণ নিয়ম হলো — না। PPR 2025-এর বিধি ১২০ অনুযায়ী, দরপত্র মূল্যায়ন থেকে চুক্তিসম্পাদন বা কার্যাদেশ প্রদান পর্যন্ত সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতা বা অন্য কোনো দরদাতার সাথে দর নিয়ে নেগোসিয়েশন করা একেবারেই নিষিদ্ধ, কিছু নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ছাড়া:

  • সরাসরি চুক্তির (Direct Contracting) মাধ্যমে ক্রয়ের ক্ষেত্রে
  • ভৌতসেবা (Physical Services) ক্রয়ের ক্ষেত্রে — Public Procurement (Amendment) Act, 2026-এর ধারা ৪৯(১)(গ) অনুযায়ী মূল্যায়ন কমিটি সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতার সঙ্গে ক্রয়তব্য সেবার কারিগরি, আর্থিক ও কর্মসম্পাদন পরিকল্পনা বিষয়ে নেগোসিয়েশন করতে পারে (এটি ২০২৬ সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া একটি নতুন সুস্পষ্ট ব্যতিক্রম)
  • আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা বৈদেশিক মুদ্রায় দর প্রস্তাব করলে
  • বিভাজ্য পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রয়ে কোটেশন পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক স্পট বাজার থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার লক্ষ্যে
  • অধিক পরিমাণে বিভাজ্য পণ্য (যেমন খাদ্যশস্য, চিনি, ভোজ্য তেল, জ্বালানি, সার) আংশিক সরবরাহের শর্তে ক্রয়ের ক্ষেত্রে

তাই সাধারণ OTM/LTM টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী দরদাতা হিসেবে ধরে নিন যে আপনার উদ্ধৃত দরই চূড়ান্ত দর — জমা দেওয়ার পর দরকষাকষির সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।

দরদাতা হিসেবে করণীয়

  • বাতিলের নোটিশে উল্লিখিত সুনির্দিষ্ট কারণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
  • সিকিউরিটি ফেরতের প্রক্রিয়া ট্র্যাক করুন, নির্ধারিত সময়ে ফেরত না পেলে ক্রয়কারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ করুন
  • পুনঃটেন্ডার প্রকাশিত হলে সংশোধিত শর্তাবলি নতুন করে যাচাই করে প্রস্তুতি নিন — আগের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট থেকে তাড়াহুড়ো করবেন না

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

টেন্ডার বাতিল হলে কি ক্রয়কারী সংস্থাকে কারণ জানাতে হয়?
হ্যাঁ, স্বচ্ছতার স্বার্থে বাতিলের নোটিশে সাধারণত সংক্ষিপ্ত কারণ উল্লেখ করা হয়।
পুনঃটেন্ডারে কি আগের দরদাতাদের অগ্রাধিকার থাকে?
না। পুনঃটেন্ডার একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রক্রিয়া — সব আগ্রহী দরদাতা (আগেরগুলোসহ নতুনরাও) সমানভাবে অংশ নিতে পারেন।
জমা দেওয়ার পর দর কমানো বা নিয়ে দরকষাকষি করা যায়?
সাধারণ OTM/LTM দরপত্রে না — বিধি ১২০ অনুযায়ী দর নিয়ে নেগোসিয়েশন নিষিদ্ধ। শুধু সরাসরি চুক্তি, ভৌতসেবা, ও কিছু নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক/বৃহৎ-পরিমাণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে।

সম্পর্কিত পাতা

তথ্যসূত্র


সর্বশেষ হালনাগাদ: মার্চ ২০২৬ · টেন্ডার জমা দেওয়ার আগে সর্বদা eprocure.gov.bd-এর মূল নথি যাচাই করুন।

রায়হান খান
রায়হান খান
প্রতিষ্ঠাতা · প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ

রায়হান খান গত ১০ বছর ধরে সরকারি ক্রয় ক্ষেত্রে কাজ করছেন — বাংলাদেশজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত, পর্যালোচনা ও জমা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশে ই-প্রকিউরমেন্ট শুরুর একদম প্রথম দিন থেকেই তিনি ই-জিপি সিস্টেমে হাতে-কলমে কাজ করে আসছেন এবং পূর্ববর্তী PPR 2008 থেকে বর্তমান PPR 2025 পর্যন্ত, টেন্ডার ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন মানদণ্ড, এবং NCT ও ICT উভয় পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রতিদিন যে অনুসন্ধান-জনিত ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা দূর করতেই তিনি ই-জিপি বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।