টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার সাধারণ কারণ
টেন্ডার সিকিউরিটি শুধু জমা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না — নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণরূপে বাজেয়াপ্ত হয়ে যেতে পারে। এই ঝুঁকিগুলো আগে থেকে জানা থাকলে অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতি এড়ানো যায়।
দরপত্র মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রত্যাহার, চুক্তি স্বাক্ষরে ব্যর্থতা, বা কার্য-সম্পাদন সিকিউরিটি জমা দিতে ব্যর্থ হলে — এই তিনটি সবচেয়ে সাধারণ কারণে টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রত্যাহার
টেন্ডার ডকুমেন্টে উল্লিখিত দরপত্র বৈধতার মেয়াদ (Bid Validity Period) শেষ হওয়ার আগেই যদি কোনো দরদাতা নিজের প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন, তাহলে সেই প্রস্তাবের সাথে জমা দেওয়া টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার নিয়ম রয়েছে। এই কারণেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দরপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি।
মেয়াদ বৃদ্ধির সীমা (PPR 2025, বিধি ৩০): ক্রয়কারী ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দরপত্রদাতাকে দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুরোধ করতে পারে, কিন্তু এই মেয়াদ সর্বমোট সর্বোচ্চ ২ (দুই) বার বাড়ানো যায় — তৃতীয় দফায় আর সম্ভব নয়, তখন পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে হয়। মেয়াদ বৃদ্ধিতে রাজি না হলে দরদাতার দরপত্র মূল্যায়নের বাইরে থেকে যায়, তবে সেক্ষেত্রে টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হয় না — যথাসম্ভব দ্রুত ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
নির্বাচিত হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষরে ব্যর্থতা
Notification of Award (NOA) পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর না করলে, বা চুক্তি স্বাক্ষরের শর্ত (যেমন প্রয়োজনীয় নথি জমা) পূরণ না করলে টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এটি ক্রয়কারী সংস্থার জন্য একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে দরদাতা দায়িত্বশীলভাবে অংশগ্রহণ করেন।
Performance Security জমা দিতে ব্যর্থতা
চুক্তি স্বাক্ষরের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্য-সম্পাদন সিকিউরিটি (Performance Security) জমা দিতে ব্যর্থ হলেও টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হতে পারে — এটি টেন্ডার সিকিউরিটি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জামানত, যা চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জমা দিতে হয়।
বিভাজ্য পণ্যের (Divisible commodities) ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্যের ৫%; পণ্যের ক্ষেত্রে ১০%; কার্যের ক্ষেত্রে ৫% (যদি অগ্রিম প্রদানের ব্যবস্থা না থাকে — ১ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের কার্যের ক্ষেত্রে এই জামানত দাখিলের প্রয়োজনই নেই); ভৌতসেবার ক্ষেত্রে ৫%; এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবার ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্যের ৩%–৫%। ফ্রন্ট-লোডিং ধরা পড়লে জামানতের হার সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। জামানতের মেয়াদ কার্যসমাপ্তির সনদ ইস্যুর তারিখের পরবর্তী ২৮ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে হয়।
জালিয়াতিমূলক তথ্য প্রদান
দরপত্রে মিথ্যা বা জালিয়াতিমূলক তথ্য/নথি প্রদান করলে, যাচাইয়ের সময় তা ধরা পড়লে সিকিউরিটি বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে টেন্ডারে অংশগ্রহণ থেকে বিরত (blacklist) রাখারও বিধান রয়েছে।
এই ঝুঁকি এড়ানোর উপায়
দরপত্র জমা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও প্রকৃত আগ্রহ নিশ্চিত হয়ে নিন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সীমা ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত রাখুন, এবং Performance Security-এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
বাজেয়াপ্ত হওয়া সিকিউরিটি কি ফেরত পাওয়া যায়?
টেন্ডার সিকিউরিটি ও পারফরম্যান্স সিকিউরিটি কি একই জিনিস?
দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ কতবার বাড়ানো যায়?
সম্পর্কিত পাতা
টেন্ডার সিকিউরিটি হিসাব
শতকরা হার ও গ্রহণযোগ্য ফর্ম।
টেন্ডার বাতিল ও পুনঃটেন্ডার
টেন্ডার বাতিল হলে সিকিউরিটির কী হয়।
তথ্যসূত্র
- National e-GP Portal — eprocure.gov.bd
- Public Procurement Rules (PPR) 2025
সর্বশেষ হালনাগাদ: মার্চ ২০২৬ · টেন্ডার জমা দেওয়ার আগে সর্বদা eprocure.gov.bd-এর মূল নথি যাচাই করুন।
রায়হান খান গত ১০ বছর ধরে সরকারি ক্রয় ক্ষেত্রে কাজ করছেন — বাংলাদেশজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত, পর্যালোচনা ও জমা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশে ই-প্রকিউরমেন্ট শুরুর একদম প্রথম দিন থেকেই তিনি ই-জিপি সিস্টেমে হাতে-কলমে কাজ করে আসছেন এবং পূর্ববর্তী PPR 2008 থেকে বর্তমান PPR 2025 পর্যন্ত, টেন্ডার ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন মানদণ্ড, এবং NCT ও ICT উভয় পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রতিদিন যে অনুসন্ধান-জনিত ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা দূর করতেই তিনি ই-জিপি বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
