ই-জিপির বদলে অফলাইনে দরপত্র: বিপিপিএ-র পরিপত্র (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি পরিপত্র জারি করেছে। বিষয়: ই-জিপি'র পরিবর্তে অফলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়া করার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নির্দেশনাবলী। স্মারক নং ২১.০০.০০০০.৩৬৩.২২.০৩০.২৪-৫১। মূল কথা: সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির বিকল্প নেই, অফলাইনের অনুমতি চাওয়া নিরুৎসাহিত, আর একান্ত ব্যতিক্রমে অনুমতি চাইলে কবে থেকে ই-জিপিতে ফিরবেন সেই সময়সীমা জানাতে হবে।
ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য সব সরকারি ক্রয় ই-জিপিতেই করতে হবে। একান্ত ব্যতিক্রমে কোনো নির্দিষ্ট প্যাকেজ (অনুমোদিত APP অনুযায়ী) ই-জিপিতে করা না গেলে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে বিপিপিএ-র অনুমোদন লাগবে, এবং চিঠিতে জনবলের প্রশিক্ষণ ও সংগ্রহ শেষে কত দ্রুত পরের ক্রয়গুলো ই-জিপিতে নেওয়া যাবে তা লিখতে হবে। এক চিঠিতে একাধিক প্যাকেজ বা নির্দিষ্ট সময়ের সব ক্রয়ের জন্য অনুমতি চাওয়া নিরুৎসাহিত।
আইনি ভিত্তি: ধারা ৬৫ ও বিধি ১৫০(১)
পরিপত্রের প্রথম অনুচ্ছেদে দুটি বিধান স্মরণ করানো হয়েছে:
- পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৫: ই-জিপি পোর্টালে প্রক্রিয়াযোগ্য সব সরকারি ক্রয় ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে করতে হবে; ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে কোনো ক্রয়কারী অসমর্থ হলে বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদন নিতে হবে। (এপ্রিল ২০২৬-এর সংশোধনী আইন এই ধারায় সব ক্রয় পরিকল্পনা ই-জিপিতে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করেছে।)
- পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫০(১), "ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয়": আইনের উদ্দেশ্য পূরণে ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য সব সরকারি ক্রয় সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে; ব্যতিক্রমে অসমর্থ হলে বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদন। শর্তাংশ: বিধি ২৫(১৪)-এর নির্দেশনা প্রতিপালন সাপেক্ষে, অফলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে বিপিপিএ-র অনুমোদন নেবে।
কেন এই পরিপত্র
পরিপত্রের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বিপিপিএ জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান আইনে বর্ণিত বিশেষ সুযোগ নিয়ে ই-জিপির বদলে অফলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়ার জন্য বিপিপিএ-তে চিঠি পাঠাচ্ছে। অর্থাৎ যা ছিল ব্যতিক্রম, তা নিয়মিত অনুরোধে পরিণত হচ্ছিল।
তৃতীয় অনুচ্ছেদে বিপিপিএ-র অবস্থান স্পষ্ট: ই-জিপি কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রশিক্ষণ চলছে এবং ই-জিপি সংক্রান্ত যেকোনো কারিগরি সমস্যা দ্রুততম সময়ে সমাধানে বিপিপিএ নিরলসভাবে কাজ করছে। সরকারি অর্থে ক্রয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিতে ই-জিপি ব্যবহারের বিকল্প নেই, এবং শতভাগ ই-জিপি ব্যবহারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
ক্রয়কারীদের জন্য নির্দেশনা
- সব ক্রয় ই-জিপিতে: সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ক্রয়কারী সংস্থা ও দপ্তরকে ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য সব ক্রয় আবশ্যিকভাবে ই-জিপিতে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অনুরোধ।
- ব্যতিক্রম শুধু নির্দিষ্ট প্যাকেজে: অনুমোদিত APP অনুযায়ী কোনো বিশেষ ক্রয় প্যাকেজ বা প্যাকেজসমূহ ই-জিপিতে করা অসম্ভব হলে তবেই অনুমতির আবেদন।
- ফেরার সময়সীমা বাধ্যতামূলক: চিঠিতে জনবলের প্রশিক্ষণ ও সংগ্রহ সম্পন্ন করে দ্রুততম কোন সময়ের মধ্যে পরবর্তী ক্রয়গুলো ই-জিপিতে প্রক্রিয়া করা সম্ভব হবে তা উল্লেখ করতে হবে।
- ঢালাও অনুমতি নিরুৎসাহিত: একটি চিঠিতে একাধিক প্যাকেজ, অথবা কোনো নির্দিষ্ট সময়কালের সব ক্রয়ের জন্য অফলাইনের অনুমতি চাওয়া নিরুৎসাহিত।
- বিপিপিএ-র সহায়তা: প্রশিক্ষণসহ সব সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে; প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ।
- শতভাগ ই-জিপি: স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে শতভাগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশিত।
অফলাইন অনুমতির আবেদনে যা থাকা উচিত
পরিপত্র ও বিধি ১৫০(১) মিলিয়ে একটি আবেদনে অন্তত এই বিষয়গুলো থাকা দরকার:
- ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে পাঠানো চিঠি।
- অনুমোদিত APP অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্যাকেজের নম্বর ও বিবরণ (ঢালাও নয়)।
- কেন সেই প্যাকেজ ই-জিপিতে প্রক্রিয়া করা যাচ্ছে না তার ব্যাখ্যা।
- জনবলের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংগ্রহ শেষ করে কবে থেকে পরের ক্রয় ই-জিপিতে যাবে তার সময়সীমা।
- বিধি ২৫(১৪)-এর নির্দেশনা প্রতিপালনের বিবরণ।
যোগাযোগ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ই-জিপি সহযোগিতা | জনাব মোঃ হারুন অর রশীদ, পরিচালক (উপসচিব), বিপিপিএ; ফোন ০১৭১৬৩৮১৯৬০; ইমেইল bppadir7@bppa.gov.bd |
| স্বাক্ষরকারী | আবু সাঈদ মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব), বিপিপিএ |
| অনুলিপি প্রেরণ | শাহ ইয়ামিন উল ইসলাম, পরিচালক (উপসচিব); ফোন ০২-৪৮১১৯৩৯৯ |
| ঠিকানা | বিপিপিএ ভবন, শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭; www.bppa.gov.bd |
বিতরণ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব; সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব (আওতাধীন সব ক্রয়কারী সংস্থাকে জানানোর অনুরোধসহ); পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা; সব সংস্থার চেয়ারম্যান, প্রধান প্রকৌশলী, মহাপরিচালক ও প্রধান। অনুলিপি গেছে পরিকল্পনা মন্ত্রী (বিপিপিএ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি), প্রতিমন্ত্রী (সিনিয়র সহসভাপতি) ও আইএমইডি সচিবের (সহসভাপতি) দপ্তরে।
দরদাতাদের জন্য এর মানে কী
- প্রায় সব টেন্ডার ই-জিপিতেই আসবে: নিবন্ধন, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও ব্যাংকিং প্রস্তুতি হালনাগাদ রাখুন। দেখুন ই-জিপি রেজিস্ট্রেশনের সাধারণ ভুল ও ডিজিটাল স্বাক্ষর।
- অফলাইন টেন্ডার দেখলে যাচাই করুন: কাগজে বা অফলাইনে দরপত্র আহ্বান দেখলে বিপিপিএ-র অনুমোদন আছে কি না জানতে চাওয়ার অধিকার আপনার আছে। বিস্তারিত দেখুন অফলাইন টেন্ডার কি এখন বৈধ?
- APP-এ নজর রাখুন: ব্যতিক্রমও অনুমোদিত APP-এর নির্দিষ্ট প্যাকেজভিত্তিক, আর সব ক্রয় পরিকল্পনা ই-জিপিতে প্রকাশ বাধ্যতামূলক। দেখুন APP দেখে আগাম প্রস্তুতি।
সংক্ষেপে
- বিপিপিএ পরিপত্র, তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (২২ ভাদ্র ১৪৩৩)।
- ভিত্তি: পিপিএ ২০০৬-এর ধারা ৬৫ ও পিপিআর ২০২৫-এর বিধি ১৫০(১)।
- ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য সব ক্রয় ই-জিপিতে; বিকল্প নেই।
- অফলাইন অনুমতি শুধু নির্দিষ্ট প্যাকেজে, কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে, ই-জিপিতে ফেরার সময়সীমাসহ।
- একাধিক প্যাকেজ বা পুরো সময়কালের জন্য ঢালাও অনুমতি নিরুৎসাহিত।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
অফলাইনে দরপত্র কি এখন একেবারে নিষিদ্ধ?
অনুমতির আবেদন কে করবেন?
এক চিঠিতে কয়েকটি প্যাকেজের অনুমতি চাওয়া যাবে?
ই-জিপিতে সমস্যা হলে কার সাথে যোগাযোগ করবেন?
দরদাতা হিসেবে অফলাইন টেন্ডার দেখলে কী করব?
সম্পর্কিত পাতা
অফলাইন টেন্ডার কি এখন বৈধ?
অফলাইন ক্রয়ের আইনি অবস্থান।
Tenderer ম্যানুয়াল
ই-জিপি ব্যবহারের নির্দেশিকা।
ক্রয়কারী (PE) ম্যানুয়াল
ক্রয়কারীর জন্য ই-জিপি নির্দেশিকা।
বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (APP)
প্যাকেজভিত্তিক পরিকল্পনা।
তথ্যসূত্র
- বিপিপিএ পরিপত্র, স্মারক নং ২১.০০.০০০০.৩৬৩.২২.০৩০.২৪-৫১, তারিখ ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ / ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬, ধারা ৬৫; পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫, বিধি ১৫০(১)
- Bangladesh Public Procurement Authority (BPPA)
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬ · এটি বিপিপিএ পরিপত্রের সারসংক্ষেপ। টেন্ডার জমা দেওয়ার আগে সর্বদা eprocure.gov.bd-এর মূল নথি যাচাই করুন।
রায়হান খান গত ১০ বছর ধরে সরকারি ক্রয় ক্ষেত্রে কাজ করছেন — বাংলাদেশজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত, পর্যালোচনা ও জমা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশে ই-প্রকিউরমেন্ট শুরুর একদম প্রথম দিন থেকেই তিনি ই-জিপি সিস্টেমে হাতে-কলমে কাজ করে আসছেন এবং পূর্ববর্তী PPR 2008 থেকে বর্তমান PPR 2025 পর্যন্ত, টেন্ডার ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন মানদণ্ড, এবং NCT ও ICT উভয় পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রতিদিন যে অনুসন্ধান-জনিত ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা দূর করতেই তিনি ই-জিপি বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
