ই-জিপির বদলে অফলাইনে দরপত্র: বিপিপিএ-র পরিপত্র (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — ই-জিপি বাংলা
Book Premium About Tenders Services SLT Calculator Blog Contact
ব্লগ · আইন ও নীতি
আইন ও নীতি

ই-জিপির বদলে অফলাইনে দরপত্র: বিপিপিএ-র পরিপত্র (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

লিখেছেন রায়হান খান · অক্টোবর ২০২৬ · ৫ মিনিট

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি পরিপত্র জারি করেছে। বিষয়: ই-জিপি'র পরিবর্তে অফলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়া করার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নির্দেশনাবলী। স্মারক নং ২১.০০.০০০০.৩৬৩.২২.০৩০.২৪-৫১। মূল কথা: সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির বিকল্প নেই, অফলাইনের অনুমতি চাওয়া নিরুৎসাহিত, আর একান্ত ব্যতিক্রমে অনুমতি চাইলে কবে থেকে ই-জিপিতে ফিরবেন সেই সময়সীমা জানাতে হবে।

ই-জিপি অফলাইন দরপত্র BPPA পরিপত্র PPR 2025 বিধি ১৫০ PPA ধারা ৬৫
সংক্ষিপ্ত উত্তর

ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য সব সরকারি ক্রয় ই-জিপিতেই করতে হবে। একান্ত ব্যতিক্রমে কোনো নির্দিষ্ট প্যাকেজ (অনুমোদিত APP অনুযায়ী) ই-জিপিতে করা না গেলে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে বিপিপিএ-র অনুমোদন লাগবে, এবং চিঠিতে জনবলের প্রশিক্ষণ ও সংগ্রহ শেষে কত দ্রুত পরের ক্রয়গুলো ই-জিপিতে নেওয়া যাবে তা লিখতে হবে। এক চিঠিতে একাধিক প্যাকেজ বা নির্দিষ্ট সময়ের সব ক্রয়ের জন্য অনুমতি চাওয়া নিরুৎসাহিত।

আইনি ভিত্তি: ধারা ৬৫ ও বিধি ১৫০(১)

পরিপত্রের প্রথম অনুচ্ছেদে দুটি বিধান স্মরণ করানো হয়েছে:

  • পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৫: ই-জিপি পোর্টালে প্রক্রিয়াযোগ্য সব সরকারি ক্রয় ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে করতে হবে; ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে কোনো ক্রয়কারী অসমর্থ হলে বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদন নিতে হবে। (এপ্রিল ২০২৬-এর সংশোধনী আইন এই ধারায় সব ক্রয় পরিকল্পনা ই-জিপিতে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করেছে।)
  • পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫০(১), "ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয়": আইনের উদ্দেশ্য পূরণে ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য সব সরকারি ক্রয় সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে; ব্যতিক্রমে অসমর্থ হলে বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদন। শর্তাংশ: বিধি ২৫(১৪)-এর নির্দেশনা প্রতিপালন সাপেক্ষে, অফলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে বিপিপিএ-র অনুমোদন নেবে।

কেন এই পরিপত্র

পরিপত্রের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বিপিপিএ জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান আইনে বর্ণিত বিশেষ সুযোগ নিয়ে ই-জিপির বদলে অফলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়ার জন্য বিপিপিএ-তে চিঠি পাঠাচ্ছে। অর্থাৎ যা ছিল ব্যতিক্রম, তা নিয়মিত অনুরোধে পরিণত হচ্ছিল।

তৃতীয় অনুচ্ছেদে বিপিপিএ-র অবস্থান স্পষ্ট: ই-জিপি কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রশিক্ষণ চলছে এবং ই-জিপি সংক্রান্ত যেকোনো কারিগরি সমস্যা দ্রুততম সময়ে সমাধানে বিপিপিএ নিরলসভাবে কাজ করছে। সরকারি অর্থে ক্রয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিতে ই-জিপি ব্যবহারের বিকল্প নেই, এবং শতভাগ ই-জিপি ব্যবহারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ক্রয়কারীদের জন্য নির্দেশনা

  1. সব ক্রয় ই-জিপিতে: সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ক্রয়কারী সংস্থা ও দপ্তরকে ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য সব ক্রয় আবশ্যিকভাবে ই-জিপিতে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অনুরোধ।
  2. ব্যতিক্রম শুধু নির্দিষ্ট প্যাকেজে: অনুমোদিত APP অনুযায়ী কোনো বিশেষ ক্রয় প্যাকেজ বা প্যাকেজসমূহ ই-জিপিতে করা অসম্ভব হলে তবেই অনুমতির আবেদন।
  3. ফেরার সময়সীমা বাধ্যতামূলক: চিঠিতে জনবলের প্রশিক্ষণ ও সংগ্রহ সম্পন্ন করে দ্রুততম কোন সময়ের মধ্যে পরবর্তী ক্রয়গুলো ই-জিপিতে প্রক্রিয়া করা সম্ভব হবে তা উল্লেখ করতে হবে।
  4. ঢালাও অনুমতি নিরুৎসাহিত: একটি চিঠিতে একাধিক প্যাকেজ, অথবা কোনো নির্দিষ্ট সময়কালের সব ক্রয়ের জন্য অফলাইনের অনুমতি চাওয়া নিরুৎসাহিত।
  5. বিপিপিএ-র সহায়তা: প্রশিক্ষণসহ সব সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে; প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ।
  6. শতভাগ ই-জিপি: স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে শতভাগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশিত।

অফলাইন অনুমতির আবেদনে যা থাকা উচিত

পরিপত্র ও বিধি ১৫০(১) মিলিয়ে একটি আবেদনে অন্তত এই বিষয়গুলো থাকা দরকার:

  • ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে পাঠানো চিঠি।
  • অনুমোদিত APP অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্যাকেজের নম্বর ও বিবরণ (ঢালাও নয়)।
  • কেন সেই প্যাকেজ ই-জিপিতে প্রক্রিয়া করা যাচ্ছে না তার ব্যাখ্যা।
  • জনবলের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংগ্রহ শেষ করে কবে থেকে পরের ক্রয় ই-জিপিতে যাবে তার সময়সীমা।
  • বিধি ২৫(১৪)-এর নির্দেশনা প্রতিপালনের বিবরণ।

যোগাযোগ

বিষয়তথ্য
ই-জিপি সহযোগিতাজনাব মোঃ হারুন অর রশীদ, পরিচালক (উপসচিব), বিপিপিএ; ফোন ০১৭১৬৩৮১৯৬০; ইমেইল bppadir7@bppa.gov.bd
স্বাক্ষরকারীআবু সাঈদ মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব), বিপিপিএ
অনুলিপি প্রেরণশাহ ইয়ামিন উল ইসলাম, পরিচালক (উপসচিব); ফোন ০২-৪৮১১৯৩৯৯
ঠিকানাবিপিপিএ ভবন, শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭; www.bppa.gov.bd

বিতরণ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব; সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব (আওতাধীন সব ক্রয়কারী সংস্থাকে জানানোর অনুরোধসহ); পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা; সব সংস্থার চেয়ারম্যান, প্রধান প্রকৌশলী, মহাপরিচালক ও প্রধান। অনুলিপি গেছে পরিকল্পনা মন্ত্রী (বিপিপিএ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি), প্রতিমন্ত্রী (সিনিয়র সহসভাপতি) ও আইএমইডি সচিবের (সহসভাপতি) দপ্তরে।

দরদাতাদের জন্য এর মানে কী

সংক্ষেপে

  • বিপিপিএ পরিপত্র, তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (২২ ভাদ্র ১৪৩৩)।
  • ভিত্তি: পিপিএ ২০০৬-এর ধারা ৬৫ ও পিপিআর ২০২৫-এর বিধি ১৫০(১)।
  • ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য সব ক্রয় ই-জিপিতে; বিকল্প নেই।
  • অফলাইন অনুমতি শুধু নির্দিষ্ট প্যাকেজে, কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে, ই-জিপিতে ফেরার সময়সীমাসহ।
  • একাধিক প্যাকেজ বা পুরো সময়কালের জন্য ঢালাও অনুমতি নিরুৎসাহিত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

অফলাইনে দরপত্র কি এখন একেবারে নিষিদ্ধ?
না। আইন ও বিধিতে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদনে অফলাইনে প্রক্রিয়ার সুযোগ আছে। পরিপত্রটি সেই সুযোগ সীমিত করেছে: শুধু অনুমোদিত APP-এর নির্দিষ্ট প্যাকেজে, কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে, ই-জিপিতে ফেরার সময়সীমাসহ।
অনুমতির আবেদন কে করবেন?
পিপিআর ২০২৫-এর বিধি ১৫০(১)-এর শর্তাংশ অনুযায়ী বিধি ২৫(১৪)-এর নির্দেশনা প্রতিপালন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী, ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের মাধ্যমে বিপিপিএ-র অনুমোদন নেবেন।
এক চিঠিতে কয়েকটি প্যাকেজের অনুমতি চাওয়া যাবে?
পরিপত্রে এক চিঠিতে একাধিক প্যাকেজ অথবা কোনো নির্দিষ্ট সময়কালের সব ক্রয়ের জন্য অফলাইনের অনুমতি চাওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
ই-জিপিতে সমস্যা হলে কার সাথে যোগাযোগ করবেন?
জনাব মোঃ হারুন অর রশীদ, পরিচালক (উপসচিব), বিপিপিএ; ফোন ০১৭১৬৩৮১৯৬০; ইমেইল bppadir7@bppa.gov.bd। বিপিপিএ প্রশিক্ষণসহ সব সহযোগিতা দিচ্ছে।
দরদাতা হিসেবে অফলাইন টেন্ডার দেখলে কী করব?
ক্রয়কারীর কাছে বিপিপিএ-র অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইতে পারেন, কারণ ই-জিপিতে প্রক্রিয়াযোগ্য ক্রয় অফলাইনে করতে বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।

সম্পর্কিত পাতা

তথ্যসূত্র

  • বিপিপিএ পরিপত্র, স্মারক নং ২১.০০.০০০০.৩৬৩.২২.০৩০.২৪-৫১, তারিখ ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ / ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬, ধারা ৬৫; পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫, বিধি ১৫০(১)
  • Bangladesh Public Procurement Authority (BPPA)

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬ · এটি বিপিপিএ পরিপত্রের সারসংক্ষেপ। টেন্ডার জমা দেওয়ার আগে সর্বদা eprocure.gov.bd-এর মূল নথি যাচাই করুন।

রায়হান খান
রায়হান খান
প্রতিষ্ঠাতা · প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ

রায়হান খান গত ১০ বছর ধরে সরকারি ক্রয় ক্ষেত্রে কাজ করছেন — বাংলাদেশজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত, পর্যালোচনা ও জমা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশে ই-প্রকিউরমেন্ট শুরুর একদম প্রথম দিন থেকেই তিনি ই-জিপি সিস্টেমে হাতে-কলমে কাজ করে আসছেন এবং পূর্ববর্তী PPR 2008 থেকে বর্তমান PPR 2025 পর্যন্ত, টেন্ডার ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন মানদণ্ড, এবং NCT ও ICT উভয় পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রতিদিন যে অনুসন্ধান-জনিত ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা দূর করতেই তিনি ই-জিপি বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।

ই-জিপি বাংলা প্রিমিয়াম

আপনার টেন্ডার, দিনে ৩ বার আপনার ইনবক্সে

পছন্দের ক্যাটাগরি, সংস্থা, জেলা ও পদ্ধতি একবার সেট করুন। প্রিমিয়াম সদস্য হলে দিনে ৩ বার (সকাল ৮:৩০, দুপুর ১:৩০ ও সন্ধ্যা ৬:৩০) শুধু আপনার সাথে মিলে যাওয়া নতুন টেন্ডারের ডাইজেস্ট ইমেইলে পৌঁছে যাবে, আর সাইটের সব পাতা হবে বিজ্ঞাপনমুক্ত।