পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬: ৩১টি ধারার সব পরিবর্তন
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪১ নং আইন) ২৭ চৈত্র ১৪৩২, অর্থাৎ ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেয়েছে এবং একই দিন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। আইনটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। ৩১টি ধারার এই আইন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিত করে তার বিধানগুলো স্থায়ী আইনে রূপ দিয়েছে। টেকসই ক্রয়, ক্রয় কৌশল, ভৌতসেবাকে সব জায়গায় আলাদা স্বীকৃতি, বিপরীত নিলাম, নতুন ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট এবং ই-জিপিতে সব ক্রয় পরিকল্পনা প্রকাশ এর বড় দিক। নিচে প্রতিটি ধারা সংক্ষেপে।
এটি কার্যকর আইন, খসড়া নয়। গেজেট প্রকাশ ১০ এপ্রিল ২০২৬, কার্যকর ধরা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ১৬ নং অধ্যাদেশ) রহিত, তবে সেই অধ্যাদেশের অধীনে করা সব কাজ এই আইনের অধীনে করা বলে গণ্য।
এক নজরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো
- আইনের লক্ষ্য বড় হলো: পূর্ণাঙ্গ শিরোনাম ও প্রস্তাবনায় "স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা"-র সাথে যুক্ত হলো অর্থের সর্বোত্তম মূল্য, দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণগতমান ও টেকসই ক্রয়।
- টেকসই ক্রয় আইনি বাধ্যবাধকতা: নতুন ধারা ১৬ অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতি করে বা শ্রম আইন, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, শিশুশ্রম নিষেধাজ্ঞার সাথে অসঙ্গত কোনো শর্ত দলিলে রাখা যাবে না।
- ক্রয় কৌশল (procurement strategy): ক্রয় পরিকল্পনার আগে প্রকল্প, বাজার, ঝুঁকি ও টেকসইতা বিশ্লেষণভিত্তিক ক্রয় কৌশল, আর প্রকল্প এর ভিত্তিতে অনুমোদিত হবে।
- ভৌতসেবা সর্বত্র: "সংশ্লিষ্ট সেবা" বাদ দিয়ে প্রায় প্রতিটি পদ্ধতির ধারায় "ভৌত সেবা" যুক্ত; "সেবা প্রদানকারী"-র নতুন সংজ্ঞা।
- বিপরীত নিলাম ও এক ধাপ দুই খাম: বিপরীত নিলাম (reverse auction) আইনে স্বীকৃত পদ্ধতি; দুই ধাপের পদ্ধতি প্রযোজ্য না হলে এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি।
- উল্লেখযোগ্যভাবে কম দর: প্রাক্কলনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দর (significantly low price) বিধি অনুযায়ী আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
- নতুন ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট: অন্য ক্রয়কারীর সম্পাদিত ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের আওতায়ও ক্রয় করা যাবে।
- বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ ও ই-জিপি: নির্দিষ্ট মূল্যসীমার উপরের চুক্তির তথ্য মালিকানাসহ বিপিপিএ-র ওয়েবসাইটে যাবে; সব ক্রয় পরিকল্পনা ই-জিপিতে প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
ধারাভিত্তিক সব পরিবর্তন
"ধারা" বলতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ২৪ নং আইন)-এর ধারা বোঝানো হয়েছে।
শিরোনাম, প্রস্তাবনা ও সংজ্ঞা (সংশোধনী আইনের ধারা ১ থেকে ৪)
| ধারা | কী বদলেছে |
|---|---|
| ১ | নাম: পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬; ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য। |
| ২: পূর্ণাঙ্গ শিরোনাম | "স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা"-র বদলে "স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অর্থের সর্বোত্তম মূল্য, দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণগতমান ও টেকসই ক্রয়"। |
| ৩: প্রস্তাবনা | প্রস্তাবনাতেও একই শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত। |
| ৪(ক): ধারা ২(৯) | "নিয়মিত"-এর বদলে "নিগমিত (incorporated)"। |
| ৪(খ): নতুন ২(৯ক) | "ক্রয় কৌশল (procurement strategy)": সর্বোত্তম অর্থমূল্য নিশ্চিত করতে প্রকল্প ধারণা, কর্মপরিবেশ, অংশীজন, বাজার ও বিকল্প বিশ্লেষণ, টেকসইতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির আলোকে ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ ও চুক্তি বাস্তবায়নের কৌশল ও পদ্ধতি। |
| ৪(খ): নতুন ২(৯খ) | "টেকসই সরকারি ক্রয় (sustainable public procurement)": ক্রয় চাহিদা, কারিগরি বিনির্দেশ ও মানদণ্ডে টেকসইতা একীভূত করে, সম্পদের কার্যকারিতা ও মান বাড়িয়ে এবং সামগ্রিক ব্যয় সমন্বয় করে পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক প্রক্রিয়া। |
| ৪(গ): নতুন ২(১৪ক) | "নিষ্পত্তি (disposal)": সরকারি নীতিমালার প্রক্রিয়ায় বিক্রয়, নিলাম বা অনুরূপ উপায়ে ক্রয়কারীর মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তির অপনয়ন বা হস্তান্তর। |
| ৪(ঘ): ধারা ২(২১) | "ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট"-এর নতুন সংজ্ঞা: পণ্য, সাধারণ কার্য, ভৌতসেবা বা বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবার মূল্য এবং ক্ষেত্রমত পরিমাণ বা অনুমিত পরিমাণের শর্তে এক বা একাধিক দরদাতা বা পরামর্শকের সাথে নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তি। |
| ৪(ঙ): নতুন ২(২১ক) | "বিপিপিএ": বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩২ নং আইন)-এর ধারা ৪-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি। |
| ৪(চ): ধারা ২(২৩) | "সংঘ"-এর পর "বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও" যুক্ত। |
| ৪(ছ): নতুন ২(৩৮) | "সেবা প্রদানকারী": ভৌতসেবা প্রদানের জন্য ক্রয়কারীর সাথে চুক্তিকারী ব্যক্তি। |
প্রয়োগ, পরিকল্পনা, দলিল ও বিনির্দেশ (ধারা ৫ থেকে ১০)
| ধারা | কী বদলেছে |
|---|---|
| ৫: নতুন ধারা ৩(৩) | ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে বিদেশে দূতাবাস, মিশন বা অনুরূপ দপ্তরের ক্রয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ক্রয় বিধি অথবা আন্তর্জাতিকভাবে সুবিদিত সংস্থার ক্রয় বিধি অনুসরণ করা যাবে; তবে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পূর্বানুমোদন লাগবে। |
| ৬: ধারা ১১ | উপান্তটীকা "ক্রয় পরিকল্পনা"-র বদলে "ক্রয় কৌশল ও ক্রয় পরিকল্পনা"; ১১(১)-এ প্রকল্প হবে "ক্রয় কৌশল অনুসরণে প্রণীত ও সরকার কর্তৃক অনুমোদিত"। |
| ৭(ক): ধারা ১২(১) | প্রাক-যোগ্যতা, দরপত্র, কোটেশন বা প্রস্তাব দলিল প্রস্তুতে ক্রয়ের আবশ্যকীয় উপাদানের পাশাপাশি টেকসই ক্রয় বিবেচনায় রেখে, অর্থের সর্বোত্তম উপযোগিতা নিশ্চিতে বিপিপিএ নির্ধারিত আদর্শ দলিল ব্যবহার। |
| ৭(খ): নতুন ধারা ১২(৩) | কোনো পদ্ধতি বা ধরনের আদর্শ দলিল বিপিপিএ প্রকাশ না করলে উন্নয়ন সহযোগী বা আন্তর্জাতিকভাবে সুবিদিত সংস্থার আদর্শ দলিল বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদনে ব্যবহার করা যাবে। |
| ৮: ধারা ১৪ | দফা (খ)-তে "পণ্য ও কার্য"-এর বদলে "পণ্য, কার্য, এবং ভৌত সেবা"; দফা (ঘ)-তে "সেবা"-র বদলে "বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা" এবং "কি"-র বদলে "কী"। |
| ৯: ধারা ১৫(১) | পক্ষপাতহীন ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার জন্য কারিগরি বিনির্দেশে প্রত্যাশিত কার্যসম্পাদন স্তর, বৈশিষ্ট্য, মান এবং প্রয়োজনে টেকসই ক্রয়ের উপাদানের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা; তবে বিনির্দেশ যেন প্রতিযোগিতা সীমিত না করে। |
| ১০: ধারা ১৬ প্রতিস্থাপন | "টেকসই ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়": সরকার টেকসই ক্রয়ে সব কার্যক্রম নেবে। ক্রয়ের আর্থিক উদ্দেশ্য ব্যাহত করে, পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলে, অথবা শ্রমিকের মজুরি ও সামাজিক সুবিধা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদি বিষয়ক বিধানের সাথে অসঙ্গত কোনো শর্ত দলিলে রাখা যাবে না। |
তথ্য প্রকাশ, যোগ্যতা ও অভিযোগ (ধারা ১১ থেকে ১৪)
| ধারা | কী বদলেছে |
|---|---|
| ১১: ধারা ১৯(১ক) | বিলুপ্ত। |
| ১২: ধারা ২১(১) | ক্রয়কারী নির্ধারিত ফরমে নোটিশ বোর্ডে বা নিজস্ব ওয়েবসাইটে (থাকলে) চুক্তির তথ্য প্রকাশ করবে; নির্ধারিত মূল্যসীমার উপরের চুক্তিতে কৃতকার্য দরদাতা বা পরামর্শকের বেনিফিশিয়াল ওনারশিপসহ চুক্তির তথ্য বিপিপিএ-র ওয়েবসাইট বা ওয়েব-পোর্টালে প্রকাশের জন্য পাঠাবে। |
| ১৩: ধারা ২৬(১) | "উল্লেখ করিবে"-র পর কোলনের বদলে দাঁড়ি এবং তার পরের শর্তাংশ বিলুপ্ত। |
| ১৪: ধারা ৩০(৩) | "পণ্য বা কার্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা"-র বদলে "পণ্য, কার্য, ভৌতসেবা বা বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা"। |
ক্রয় পদ্ধতি (ধারা ১৫ থেকে ১৯)
| ধারা | কী বদলেছে |
|---|---|
| ১৫: ধারা ৩১ প্রতিস্থাপন | "উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ": পণ্য, সংশ্লিষ্ট সেবা, কার্য ও ভৌতসেবায় অগ্রে বিবেচ্য হিসেবে উন্মুক্ত দরপত্র। শর্ত: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাক-যোগ্যতা; বৈষম্যহীন সম-শর্ত; ধারা ৪০ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন; দাখিল ও সরবরাহ বা সম্পাদনের ন্যূনতম সময়; সর্বনিম্ন মূল্যায়িত রেসপন্সিভ দরদাতার সাথে চুক্তি। প্রাক্কলনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দর বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিধিতে। |
| ১৬(ক), (খ): ধারা ৩২ | উপান্তটীকায় "পণ্য, কার্য, ভৌত সেবা"; ৩২(১) থেকে "সংশ্লিষ্ট সেবা," বিলুপ্ত। |
| ১৬(গ)(অ), (ই): ধারা ৩২(১) | দফা (ক)(অ) ও দফা (খ)(অ) থেকে "সংশ্লিষ্ট সেবা," বিলুপ্ত। |
| ১৬(গ)(আ): ধারা ৩২(১)(ক)(ই) | বিধির মূল্যসীমা সাপেক্ষে তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী, ঠিকাদার বা সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে পণ্য, কার্য বা ভৌতসেবা ক্রয়। (অ) ও (আ)-তে মূল্যসীমা নেই, সম্ভাব্য সবাইকে আহ্বান; (ই)-তে অভ্যন্তরীণ কার্যে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় উল্লেখ বাধ্যতামূলক এবং প্রাক্কলন থেকে বিধির শতাংশের বেশি কম বা বেশি দর বাতিল। |
| ১৬(গ)(ঈ): ধারা ৩২(১)(খ)(ই) | "বা ঠিকাদারের"-এর বদলে ", ঠিকাদার বা সেবা প্রদানকারীর"। |
| ১৬(গ)(উ): ধারা ৩২(১)(গগ) | দুই পর্যায়বিশিষ্ট দরপত্র প্রযোজ্য না হলে কারিগরিতে কৃতকার্যদের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতার সাথে চুক্তির মাধ্যমে এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি; উল্লেখযোগ্যভাবে কম দর বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন। |
| ১৬(গ)(ঊ): ধারা ৩২(১)(ঘ)(অ) | "পণ্য"-এর পর "সাধারণ কার্য" যুক্ত। |
| ১৬(গ)(ঋ): নতুন ৩২(১)(ঘ)(ঙ) | নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিপরীত নিলাম (reverse auction)। ব্যাখ্যা: ক্রয়কারী নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার দরপত্র আহ্বান করে নিলাম শুরু করেন এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারীরা প্রকৃত সময়ে (real time) ক্রমান্বয়ে কম দামে দরপত্র জমা দিয়ে প্রতিযোগিতা করেন। |
| ১৭: ধারা ৩৩ | উপান্তটীকায় "কার্য,"-এর পর "ভৌত সেবা," যুক্ত এবং "সংশ্লিষ্ট সেবা," বিলুপ্ত। |
| ১৮: ধারা ৩৪ | উপান্তটীকায় "ভৌত সেবা," যুক্ত; ৩৪(১) ও ৩৪(৪) থেকে "সংশ্লিষ্ট সেবা," বিলুপ্ত। নতুন ৩৪(৫): কারিগরি কারণে একমাত্র দরদাতা থাকলে, অথবা নির্ধারিত শর্তে মূল সরবরাহকারী, ঠিকাদার বা সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে অতিরিক্ত সরবরাহ, অতিরিক্ত কার্য, অতিরিক্ত ভৌতসেবা বা বর্ধিত সেবা ক্রয়ে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি। |
| ১৯: ধারা ৩৬ প্রতিস্থাপন | "ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট": নিয়মিত প্রয়োজনীয় সচরাচর ব্যবহৃত পণ্য, সাধারণ কার্য, আবর্তক ভৌতসেবা বা বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবায় প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে এক বা একাধিক দরদাতা বা পরামর্শকের সাথে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট এবং বিধি অনুযায়ী ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে ক্রয়। অন্য ক্রয়কারীর সম্পাদিত এগ্রিমেন্টের আওতায় একই ধরনের ক্রয় করা যাবে। সরকারের নির্দেশাবলি ও আদর্শ দলিল প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ ব্যবহার। |
সেবা ক্রয়, বিজ্ঞাপন ও মূল্যায়ন (ধারা ২০ থেকে ২৬)
| ধারা | কী বদলেছে |
|---|---|
| ২০: ধারা ৩৯(২) | নতুন শর্তাংশ: সরকারের নিজস্ব অর্থে তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা (IT services) ক্রয়ে আন্তর্জাতিক প্রস্তাব আহ্বান অপরিহার্য হলে দেশীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগের অংশীদার করতে হবে। |
| ২১: ধারা ৪০(৫) | "বিজ্ঞাপন"-এর পর "উপ-ধারা (২)-এর ব্যবস্থার অতিরিক্ত হিসেবে" এবং "প্রকাশনায়,"-এর পর "বা ওয়েবসাইটে" যুক্ত। |
| ২২, ২৩, ২৪: ধারা ৪১, ৪৪(১), ৪৮(২)(ক) | তিনটি ধারা থেকেই "সংশ্লিষ্ট সেবা," বিলুপ্ত। |
| ২৫(ক): ধারা ৪৯(১)(ক) | শর্তাংশে "অনধিক ৩ (তিন) কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের"-এর বদলে "বিধি দ্বারা নির্দিষ্টকৃত মূল্যসীমা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ কার্য ক্রয়ের"; শেষের "এবং" বিলুপ্ত। |
| ২৫(খ): নতুন ধারা ৪৯(১)(গ) | ভৌতসেবার দরপত্র মূল্যায়নে মূল্যায়ন কমিটি সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতার সাথে ক্রয়তব্য (object of procurement) সেবার কারিগরি, আর্থিক, কর্মসম্পাদন পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে নেগোসিয়েশন করতে পারবে। |
| ২৬: ধারা ৫৬(২) | সংক্ষিপ্ত তালিকায় "ন্যূনতম ৪ (চার) ও সর্বোচ্চ ৭ (সাত) জন আবেদনকারী"-র বদলে "বিধি দ্বারা বর্ণিত পন্থায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক"। |
শৃঙ্খলা, ই-জিপি, রহিতকরণ (ধারা ২৭ থেকে ৩১)
| ধারা | কী বদলেছে |
|---|---|
| ২৭: ধারা ৬৪(৩) | "Government Servants (Discipline and Appeal) Rule, 1985 এর rule 3(b) এবং 3(d)"-এর বদলে "সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮"। |
| ২৮: ধারা ৬৫(১) | ই-জিপি পোর্টালে প্রক্রিয়াযোগ্য সব সরকারি ক্রয় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করতে হবে; ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে অসমর্থ হলে বিপিপিএ-র পূর্বানুমোদন লাগবে। সব ক্রয় পরিকল্পনা ই-জিপিতে প্রকাশ বাধ্যতামূলক। |
| ২৯: ধারা ৬৬ | "জারীকৃত নির্দেশনা ও নমুনা চুক্তিপত্র"-এর বদলে "প্রণীত আইন, বিধি ও অপরাপর নির্দেশনা"। |
| ৩০: ধারা ৬৭ | বিলুপ্ত। |
| ৩১: রহিতকরণ ও হেফাজত | পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ১৬ নং অধ্যাদেশ) রহিত; তবে এর অধীনে করা কাজ বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীনে করা বলে গণ্য। |
দরদাতাদের জন্য এর মানে কী
- ভৌতসেবা দরদাতারা পূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন: "সেবা প্রদানকারী" সংজ্ঞা এবং প্রায় সব পদ্ধতিতে ভৌতসেবার উল্লেখ; ভৌতসেবায় মূল্যায়ন কমিটির সাথে নেগোসিয়েশনের সুযোগও এসেছে। দেখুন ভৌতসেবা কেন আলাদা।
- অস্বাভাবিক কম দর ঝুঁকিপূর্ণ: উল্লেখযোগ্যভাবে কম দর আলাদা মূল্যায়নে যাবে, আর তালিকাভুক্তিভিত্তিক অভ্যন্তরীণ কাজে প্রাক্কলনের নির্ধারিত সীমার বাইরের দর বাতিল। দর নির্ধারণে দেখুন রেট অ্যানালাইসিস।
- টেকসইতা ও শ্রম অধিকার মানতে হবে: বিনির্দেশ ও শর্তে টেকসইতার উপাদান আসবে; শ্রম, নিরাপত্তা ও শিশুশ্রম আইনবিরোধী কিছু চলবে না।
- মালিকানা প্রকাশ: নির্দিষ্ট মূল্যসীমার উপরের চুক্তিতে বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ বিপিপিএ-র পোর্টালে প্রকাশ পাবে। দেখুন বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ।
- আগাম প্রস্তুতির সুযোগ: সব ক্রয় পরিকল্পনা ই-জিপিতে প্রকাশ বাধ্যতামূলক হওয়ায় APP দেখে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ। দেখুন APP দেখে আগাম প্রস্তুতি।
- দেশীয় আইটি পরামর্শকের সুযোগ: সরকারি অর্থে আন্তর্জাতিক আইটি সেবা ক্রয়ে দেশীয় পরামর্শক যৌথ উদ্যোগে থাকবেই।
পরবর্তী সংশোধনের সাথে সম্পর্ক
এই আইনের পর ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি হয়, যা ধারা ৩১ আবার প্রতিস্থাপন করে এবং ধারা ৩২(১)-এর তালিকাভুক্তি ও এক ধাপ দুই খাম সংক্রান্ত অংশ বিলুপ্ত করে নতুন ধারা ৩১ ও ৩১ক-তে সাজিয়েছে। আর ২৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে দ্বিতীয় সংশোধনী আইনের খসড়া। তাই কোনো বিধান প্রয়োগের আগে কোন সংশোধনী কোন তারিখে কার্যকর তা মিলিয়ে নিন।
সংক্ষেপে
- ২০২৬ সনের ৪১ নং আইন; গেজেট ১০ এপ্রিল ২০২৬; কার্যকর ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে।
- সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিত, তার অধীনের কাজ বহাল।
- অর্থের সর্বোত্তম মূল্য, নৈতিকতা, গুণগতমান ও টেকসই ক্রয় আইনের লক্ষ্যে যুক্ত।
- ক্রয় কৌশল, টেকসই ক্রয়, নিষ্পত্তি, বিপিপিএ ও সেবা প্রদানকারীর নতুন সংজ্ঞা।
- বিপরীত নিলাম, এক ধাপ দুই খাম, নতুন ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয়ের নতুন ক্ষেত্র।
- বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ প্রকাশ এবং সব ক্রয় পরিকল্পনা ই-জিপিতে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
এই আইন কবে থেকে কার্যকর?
এই আইন কোন অধ্যাদেশ রহিত করেছে?
টেকসই সরকারি ক্রয় বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বিপরীত নিলাম কীভাবে কাজ করে?
সংক্ষিপ্ত তালিকায় পরামর্শকের সংখ্যা কি এখনো ৪ থেকে ৭?
সম্পর্কিত পাতা
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬
মূল আইন ও সংশোধনী।
বিপরীত নিলাম
পদ্ধতির বিস্তারিত।
ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট
পদ্ধতির বিস্তারিত।
বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ
মালিকানা প্রকাশের নিয়ম।
তথ্যসূত্র
- পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪১ নং আইন), বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১০ এপ্রিল ২০২৬, পৃষ্ঠা ১৬৩৮৭-১৬৩৯৪
- Bangladesh Public Procurement Authority (BPPA)
- বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (bgpress.gov.bd)
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬ · এটি গেজেটে প্রকাশিত আইনের সারসংক্ষেপ; আইনি প্রয়োজনে মূল গেজেট দেখুন। পরবর্তী অধ্যাদেশ বা সংশোধনী কিছু ধারা আবার বদলেছে। টেন্ডার জমা দেওয়ার আগে সর্বদা eprocure.gov.bd-এর মূল নথি যাচাই করুন।
রায়হান খান গত ১০ বছর ধরে সরকারি ক্রয় ক্ষেত্রে কাজ করছেন — বাংলাদেশজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত, পর্যালোচনা ও জমা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশে ই-প্রকিউরমেন্ট শুরুর একদম প্রথম দিন থেকেই তিনি ই-জিপি সিস্টেমে হাতে-কলমে কাজ করে আসছেন এবং পূর্ববর্তী PPR 2008 থেকে বর্তমান PPR 2025 পর্যন্ত, টেন্ডার ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন মানদণ্ড, এবং NCT ও ICT উভয় পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রতিদিন যে অনুসন্ধান-জনিত ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা দূর করতেই তিনি ই-জিপি বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
