পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬: ৩০টি ধারার সব পরিবর্তন — ই-জিপি বাংলা
Book Premium About Tenders Services SLT Calculator Blog Contact
ব্লগ · আইন ও নীতি
আইন ও নীতি

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬: ৩০টি ধারার সব পরিবর্তন

লিখেছেন রায়হান খান · অক্টোবর ২০২৬ · ১০ মিনিট

সংসদ অধিবেশনে না থাকায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩, অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ (অধ্যাদেশ নং ৩৭, ২০২৬) জারি করেছেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ একই দিন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশ করে। ৩০টি ধারার এই অধ্যাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এ উন্মুক্ত দরপত্রে দুই খাম, সীমিত দরপত্রের নতুন ধারা ৩১ক, দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকার, বিদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক যৌথ উদ্যোগ ও অযোগ্য ঘোষণার নতুন নিয়ম এনেছে। নিচে প্রতিটি ধারা সংক্ষেপে।

PPA 2006 অধ্যাদেশ নং ৩৭ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ সীমিত দরপত্র গেজেট
সংক্ষিপ্ত উত্তর

অধ্যাদেশটি জারি হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, তবে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে যে তারিখ নির্ধারণ করবে সেদিন থেকে কার্যকর হবে। স্বাক্ষর: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী। কার্যকর তারিখের প্রজ্ঞাপন হয়েছে কি না বিপিপিএ বা গেজেটে মিলিয়ে নিন।

এক নজরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো

  1. উন্মুক্ত দরপত্রে দুই খাম: দরপত্রে কারিগরি ও আর্থিক দুটি অংশ; কারিগরিতে উত্তীর্ণদের আর্থিক প্রস্তাব খোলা হবে এবং সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা চুক্তি পাবেন।
  2. বড় ক্রয়ে মান ও দামের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন: বিধিতে নির্দিষ্ট মূল্যসীমার উপরের ক্রয়ে টেকসইতাসহ কারিগরি মানের স্কোর ও আর্থিক স্কোরের অনুপাতে মূল্যায়ন।
  3. প্রাক্কলিত ব্যয় প্রকাশ্যে: কারিগরি মূল্যায়ন অনুমোদনের পর উপস্থিত দরদাতাদের সামনে আর্থিক প্রস্তাবের সাথে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ও খোলা হবে।
  4. সীমিত দরপত্রের নতুন ধারা ৩১ক: নতুন, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, নারী দরদাতা ও "সুযোগবঞ্চিত" ব্যক্তিদের জন্য এলাকা ও শ্রেণিভিত্তিক তালিকাভুক্তি।
  5. যোগ্যতার কঠিন শর্তে নিষেধ: শুধু দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, উচ্চ টার্নওভার, সরকারি কাজ বা একক বৃহৎ চুক্তির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা যাবে না।
  6. দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকার: দেশে উৎপাদিত পণ্যে অগ্রাধিকার বা নির্দিষ্ট শ্রেণির দেশীয় পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা।
  7. বিদেশিদের জন্য যৌথ উদ্যোগ বাধ্যতামূলক: বাংলাদেশি অংশীদার ছাড়া প্রাক-যোগ্যতা, আগ্রহব্যক্তকরণ বা দরপত্রে অংশ নেওয়া যাবে না।
  8. অযোগ্য ঘোষণার আগে কারণ দর্শানো: লিখিত নোটিশ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং শুধু সংশোধনযোগ্য ত্রুটিতে আগে সংশোধনের সুযোগ।

ধারাভিত্তিক সব পরিবর্তন

"ধারা" বলতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ২৪ নং আইন)-এর ধারা বোঝানো হয়েছে।

শিরোনাম ও সংজ্ঞা (অধ্যাদেশের ধারা ১ ও ২)

ধারাকী বদলেছে
১নাম: পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত তারিখে কার্যকর।
২(ক): নতুন ধারা ২(৩ক)"ইকোনমিক অপারেটর (Economic operator)": চুক্তির অধীনে পণ্য সরবরাহ, কার্যসম্পাদন, ভৌতসেবা বা বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি; সরবরাহকারী, ঠিকাদার, সেবাপ্রদানকারী ও পরামর্শক সবাই অন্তর্ভুক্ত।
২(খ): ধারা ২(৮)"ক্রয়কারী (Procuring Entity)": সরকারি তহবিলে ক্রয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তা।
২(গ): ধারা ২(১৮)"পাবলিক প্রকিউরমেন্ট": এই আইনের অধীনে সরকারি তহবিল ব্যবহার করে ক্রয়কারীর ক্রয়।
২(ঘ): ধারা ২(৩১)"ফ্যাক্স বা ইলেকট্রনিক বার্তাও"-এর বদলে "ইলেকট্রনিক মেইল বা বার্তাও"।
২(ঙ): নতুন ধারা ২(৩৬ক)"সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তি": বৈধ নিবন্ধন বা লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও সুযোগ বা অনুকূল পরিবেশের অভাবে এই অধ্যাদেশ কার্যকরের আগের সর্বোচ্চ ২০ বছরে কোনো সরকারি ক্রয়ে অংশ নিতে পারেননি বা নেননি এমন ব্যক্তি।

কমিটি, পরিকল্পনা ও চুক্তি ব্যবস্থাপনা (ধারা ৩ থেকে ৬)

ধারাকী বদলেছে
৩: ধারা ৬(১)দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি দাখিলের শেষ সময়ের আগে গঠিত হবে, কার্যালয় প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা কার্যালয় প্রধানের নিচের স্তরের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে; মূল্যায়ন কমিটির অন্তত একজন সদস্যসহ।
৪: ধারা ৭(১)মূল্যায়ন কমিটি দাখিলের তারিখের আগে নিজস্ব কার্যালয় ও বাইরের কর্মকর্তা নিয়ে, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে; সেই কর্তৃপক্ষ কার্যালয় প্রধানের উপরের স্তরের হলে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব অথবা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুমোদনে। একটি ক্রয় একাধিক মূল্যায়ন কমিটি মূল্যায়ন করতে পারবে না।
৫: ধারা ১১প্রকল্পের সাথে "কর্মসূচি" যুক্ত; "রাজস্ব"-এর বদলে "পরিচালন" ও "বাৎসরিক"-এর বদলে "বার্ষিক"; ক্রয়চাহিদা বিধি অনুযায়ী একাধিক প্যাকেজ ও প্যাকেজ একাধিক লটে ভাগ করা যাবে; লটে ভাগ হলে মোট অর্থের অনুমোদন-ক্ষমতা যার, যেকোনো লটের চুক্তি প্রস্তাবও তাঁর কাছে।
৬: ধারা ২২ প্রতিস্থাপন"চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা": আইন, বিধি ও আদর্শ দলিল মেনে চুক্তি পরিচালনা; ভেরিয়েশন অর্ডার, অতিরিক্ত সরবরাহ বা সময় বৃদ্ধির মতো পরিবর্তনে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সংশোধিত চুক্তি; অবহেলায় ক্রয়কারী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্টরা ব্যাখ্যা-সাপেক্ষে দায়বদ্ধ।

যোগ্যতা, দেশীয় অগ্রাধিকার ও যৌথ উদ্যোগ (ধারা ৭ থেকে ১২)

ধারাকী বদলেছে
৭: ধারা ২৫(২), (৩)নতুন নিবন্ধিত বা নবীন উদ্যোক্তার অংশগ্রহণ অপ্রয়োজনীয়ভাবে সীমিত করে এমন শর্ত নিষিদ্ধ; শুধু দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা, উচ্চ বার্ষিক টার্নওভার, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের অভিজ্ঞতা বা একক বৃহৎ চুক্তির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক যোগ্যতা করা যাবে না; প্রকৃতি, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত চলবে।
৮: নতুন ধারা ২৫ক"দেশীয় পণ্য ক্রয়ে অগ্রাধিকার": দেশীয় শিল্প, স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের জন্য বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যে অগ্রাধিকার বা নির্দিষ্ট শ্রেণির দেশীয় পণ্য ক্রয় বাধ্যতামূলক।
৯: ধারা ২৬দেশীয় শিল্প, নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র, নারী দরদাতা বা সুযোগবঞ্চিতদের জন্য সরকার যোগ্যতার শর্ত শিথিল করতে পারবে; নতুন ২৬(৩): দরদাতার নৈতিক ও আইনি মানদণ্ডে উত্তীর্ণতা বিধিতে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যায়ন করবে।
১০: ধারা ২৭(২)বিদেশি ব্যক্তি প্রাক-যোগ্যতা, আগ্রহব্যক্তকরণ, দরপত্র বা প্রস্তাবে অংশ নিতে বাংলাদেশি ব্যক্তির সাথে যৌথ উদ্যোগ বাধ্যতামূলক; দেশীয় অংশীদারের ন্যূনতম অংশ বিধিতে; বিশেষ ক্রয়ে সরকার শিথিল করতে পারবে।
১১: ধারা ২৯(২)(গ)(আ)"অনুমোদনের"-এর বদলে "সুপারিশের"।
১২: ধারা ৩০(৪)আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি এবং রিভিউ প্যানেল গঠন, পুনর্গঠন, সদস্য অপসারণ ও শূন্যপদ পূরণ সরকারের বিধি অনুযায়ী।

উন্মুক্ত ও সীমিত দরপত্র (ধারা ১৩ থেকে ১৬)

ধারাকী বদলেছে
১৩: ধারা ৩১ প্রতিস্থাপন"উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ": ধারা ৩১ক(২)-এর ক্ষেত্র ছাড়া পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবায় উন্মুক্ত দরপত্র অগ্রে বিবেচ্য। শর্ত: (ক) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাক-যোগ্যতা; (খ) বৈষম্যহীন সম-শর্ত; (গ) ধারা ৪০ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন; (ঘ) দাখিল ও সম্পাদনের ন্যূনতম সময়; (ঙ) কারিগরি ও আর্থিক দুই অংশ; (চ) কারিগরিতে উত্তীর্ণদের আর্থিক প্রস্তাব খোলা; (ছ) প্রাক্কলনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দর (significantly low price) বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন; (জ) সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতার সাথে চুক্তি; (ঝ) বিধির মূল্যসীমার উপরের ক্রয়ে টেকসইতাসহ কারিগরি মানের স্কোর ও আর্থিক মূল্যভিত্তিক স্কোরের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিধিতে।
১৪: নতুন ধারা ৩১ক"সীমিত ক্রয় পদ্ধতির প্রয়োগ": দেশীয় শিল্প, নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র বা নারী দরদাতা, সুযোগবঞ্চিতদের অংশগ্রহণ ও চুক্তি প্রাপ্তির সুবিধা, অথবা কারিগরি বা সরবরাহ শৃঙ্খলের কারণে সীমিত সরবরাহকারী থাকলে কার্যালয় প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদনে সীমিত দরপত্র। ক্ষেত্রসমূহ: (ক) বিশেষায়িত বা সরবরাহ শৃঙ্খলবদ্ধ, সীমিত উৎসে লভ্য পণ্য, কার্য বা ভৌতসেবা; (খ) খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমাতে ব্র্যান্ডের মান প্রমিতকরণের সরকারি নীতি; (গ) অপ্রত্যাশিত জরুরি প্রয়োজন, যা ক্রয়কারীর দীর্ঘসূত্রতায় সৃষ্ট নয়; (ঘ) সরকার-স্বীকৃত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং সরকারি বা অনুমোদিত অর্থনৈতিক জোনে উৎপাদিত পণ্য; (ঙ) নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র, নারী ও সুযোগবঞ্চিতসহ দরদাতাদের কাছ থেকে বিধির মূল্যসীমা সাপেক্ষে এলাকাভিত্তিক অধিক্ষেত্র ও শ্রেণিভিত্তিক তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ক্রয়। (ক), (খ), (ঘ)-তে মূল্যসীমা নেই এবং সম্ভাব্য সবাইকে আহ্বান; (গ)-তে নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ও বিধির পদ্ধতি; (ঙ)-এর অভ্যন্তরীণ ক্রয়ে প্রাক্কলন থেকে বিধির শতাংশের বেশি কম বা বেশি দর বাতিল।
১৫: ধারা ৩২(১)দফা (ক), দফা (খ)-এর উপ-দফা (ই) এবং দফা (গগ) বিলুপ্ত। অর্থাৎ এপ্রিল ২০২৬-এর সংশোধনী আইনে যোগ হওয়া তালিকাভুক্তিভিত্তিক ক্রয় ও এক ধাপ দুই খামের অংশগুলো এখান থেকে সরে নতুন ধারা ৩১ ও ৩১ক-তে এসেছে।
১৬: ধারা ৩৪উপ-ধারা (১ক) বিলুপ্ত এবং (৩) ও (৬) থেকে এর উল্লেখ বাদ। নতুন ৩৪(৫): একমাত্র দরদাতা থাকলে, অথবা অন্য রাষ্ট্রের সরকার, সরকারি বা সরকার-মনোনীত প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকে ক্রয়ে বিধি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি।

বিজ্ঞাপন, উন্মুক্তকরণ ও মূল্যায়ন (ধারা ১৭ থেকে ২২)

ধারাকী বদলেছে
১৭: ধারা ৪০বিজ্ঞাপন একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় সংবাদপত্রে; আন্তর্জাতিক দরদাতাদের জন্য অতিরিক্তভাবে আন্তর্জাতিক ইংরেজি সংবাদপত্র, প্রকাশনা বা নিউজ-পোর্টাল, জাতিসংঘের প্রকাশনা বা ওয়েবসাইট (যেমন UNGM) বা আন্তর্জাতিক দরপত্র বা বাণিজ্যিক পোর্টালে, প্রয়োজনে দেশে বিদেশি মিশন ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে।
১৮: ধারা ৪৬(৫)বিলুপ্ত।
১৯: ধারা ৪৭ প্রতিস্থাপন"দরপত্র উন্মুক্তকরণ": শেষ সময়ের পরপরই কারিগরি প্রস্তাব খোলা; কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন কার্যালয় প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি অনুমোদন না করা পর্যন্ত আর্থিক প্রস্তাব নিরাপদে সংরক্ষিত। এরপর দলিলে উল্লিখিত স্থানে উত্তীর্ণ আগ্রহী দরদাতা বা প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মূল্যায়ন কমিটি আর্থিক প্রস্তাব ও দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় খুলে মূল্যায়ন করবে। এভাবে না খোলা দরপত্র বিবেচিত হবে না, না খুলে ফেরত।
২০: ধারা ৪৯(১)(খ)নতুন শর্তাংশ: সরকার বিধির পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশনের সুযোগ বাড়াতে বা সীমিত করতে পারবে।
২১: ধারা ৫০ প্রতিস্থাপন"দরপত্র দাখিল-উত্তর যোগ্যতা যাচাই": প্রতিবেদন চূড়ান্তের আগে মূল্যায়ন কমিটি সর্বনিম্ন রেসপন্সিভ অথবা ধারা ৩১(১)(ঝ) অনুযায়ী সফল দরদাতার চুক্তি পালনের যোগ্যতা ও আর্থিক সামর্থ্য যাচাই করবে।
২২: ধারা ৫১(১)"নোটিশ প্রদান করিবে"-এর পর যুক্ত: "অথবা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ধারা ৭(৬) মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করিবে"।

পরিসমাপ্তি, অসদাচরণ, বিপিপিএ ও জরুরি ক্রয় (ধারা ২৩ থেকে ৩০)

ধারাকী বদলেছে
২৩: ধারা ৫৩ প্রতিস্থাপন"দরপত্র প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি": চুক্তিস্বাক্ষরের পর অকৃতকার্যদের লিখিতভাবে জানানো, কৃতকার্যের মালিকানা ও চুক্তির তথ্যসহ নোটিশ প্রকাশ এবং গ্রহণযোগ্য দরদাতাদের জামানত ফেরত।
২৪: ধারা ৫৬(১)"ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধানের"-এর বদলে কার্যালয় প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কার্যালয় প্রধানের নিচের স্তরের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ।
২৫: ধারা ৫৯(১)"তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির"-এর পর নিচের স্তরের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ যুক্ত।
২৬: ধারা ৬১(১)"পেশ করিবে"-এর পর যুক্ত: "অথবা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ধারা ৭(৬) মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করিবে"।
২৭: ধারা ৬৩ প্রতিস্থাপন"প্রস্তাব প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি": পরামর্শকের সাথে চুক্তির পর অন্য আবেদনকারী ও পরামর্শকদের লিখিতভাবে জানানো এবং মালিকানা ও চুক্তির তথ্যসহ নোটিশ প্রকাশ।
২৮: ধারা ৬৪৬৪(২)-এ "বা অন্য কোন কর্মকাণ্ডে"-এর বদলে "প্রতিবন্ধকতামূলক কর্মকাণ্ডে"। নতুন ৬৪(৫): আইন, বিধি, দলিল বা চুক্তি লঙ্ঘন, দুর্নীতি, প্রতারণা, যোগসাজশ, জবরদস্তি, প্রতিবন্ধকতা, কার্যসম্পাদন ব্যর্থতা বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সিদ্ধান্তের আগে লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ। নতুন ৬৪(৬): কার্যালয় প্রধান কারণ লিখে নির্দিষ্ট মেয়াদে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন; দুর্নীতি, প্রতারণা, যোগসাজশ, জবরদস্তি ও প্রতিবন্ধকতা ছাড়া শুধু সংশোধনযোগ্য ত্রুটিতে আগে সংশোধনের সুযোগ; মেয়াদ, নিবন্ধন বাতিল ও তথ্য সংরক্ষণ বিধিতে।
২৯: নতুন ধারা ৬৬কবিপিপিএ-র দায়িত্ব: নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনার; আধুনিকীকরণে গবেষণা; স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নৈতিকতা, টেকসইতা ও প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নে উদ্যোগ ও সরকারকে পরামর্শ; প্রতি বছর সরকারের কাছে প্রতিবেদন।
৩০: ধারা ৬৮(১)রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন, বিপর্যয় মোকাবিলা বা জনগুরুত্বপূর্ণ ক্রয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে সরাসরি ক্রয় বা একক উৎসভিত্তিক নির্বাচন, কোনো পদ্ধতির বিশদ ধাপ পরিহার, অথবা বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থা (Alternative Procurement Arrangement)।

এপ্রিলের আইন ও অক্টোবরের খসড়ার সাথে পার্থক্য

  • এপ্রিল ২০২৬-এর সংশোধনী আইনে উন্মুক্ত দরপত্রে সর্বনিম্ন মূল্যায়িত রেসপন্সিভ দরদাতা চুক্তি পেতেন এবং তালিকাভুক্তি ও এক ধাপ দুই খাম ছিল ধারা ৩২-এ। এই অধ্যাদেশ দুই খাম বাধ্যতামূলক করে, বড় ক্রয়ে মান ও দামের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন আনে এবং সীমিত দরপত্রকে আলাদা ধারা ৩১ক-তে সাজায়।
  • ২৯ অক্টোবর ২০২৬-এর দ্বিতীয় সংশোধনী খসড়া এই অধ্যাদেশের প্রায় সব বিধান রেখে আরও এগিয়েছে: উন্মুক্ত দরপত্রে সর্বোচ্চ সম্মিলিত স্কোরধারী চুক্তি পাবেন, অভ্যন্তরীণ কার্য ও ভৌতসেবায় ±১০% সীমা এবং ৮০:২০ ওজন। খসড়ায় আউটসোর্সিং, DPM, RFQ ও বিপরীত নিলামে জামানত মওকুফ, INCOTERMS এবং সেবা ক্রয়ে যৌথ উদ্যোগের মতো বিষয়ও যুক্ত, যা অধ্যাদেশে নেই।
  • ধারা ৩১(১)(ঝ): অধ্যাদেশের ধারা ৫০-এ এই উল্লেখটি সঠিক, কারণ অধ্যাদেশের ধারা ৩১(১)-এ দফা (ঝ) আছে। খসড়ায় ধারা ৫০ একই ভাষায় রাখা হলেও খসড়ার নতুন ধারা ৩১(১) দফা (ছ)-তে শেষ।

দরদাতাদের জন্য এর মানে কী

  • দুই খামে প্রস্তুতি: কারিগরি প্রস্তাবে ফেল করলে আর্থিক প্রস্তাব খোলাই হবে না, তাই কারিগরি অংশ নিখুঁত করুন। দেখুন দরপত্র কেন নন-রেসপন্সিভ হয়।
  • অস্বাভাবিক কম দরে সতর্কতা: প্রাক্কলনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দর আলাদা মূল্যায়নে যাবে, আর প্রাক্কলিত ব্যয় প্রকাশ্যে খোলা হবে।
  • নতুন ও ছোট প্রতিষ্ঠানের সুযোগ: শর্ত শিথিল, কঠিন অভিজ্ঞতার শর্তে নিষেধ এবং তালিকাভুক্তিভিত্তিক সীমিত দরপত্র।
  • বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দেশীয় অংশীদার লাগবে। দেখুন যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণ।
  • শাস্তির আগে ন্যায্য প্রক্রিয়া: কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সংশোধনের সুযোগ।

সংক্ষেপে

  • অধ্যাদেশ নং ৩৭, ২০২৬; জারি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬; কার্যকর গেজেট প্রজ্ঞাপিত তারিখে।
  • উন্মুক্ত দরপত্রে দুই খাম; বড় ক্রয়ে মান ও দামের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন; প্রাক্কলিত ব্যয় প্রকাশ্যে।
  • সীমিত দরপত্রের নতুন ধারা ৩১ক; সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তির সংজ্ঞা।
  • দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকার; বিদেশিদের জন্য যৌথ উদ্যোগ বাধ্যতামূলক।
  • অযোগ্য ঘোষণার আগে কারণ দর্শানো; বিপিপিএ-র নতুন দায়িত্ব; জরুরি ক্রয়ে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থা।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

অধ্যাদেশটি কবে জারি হয়েছে এবং কবে কার্যকর?
রাষ্ট্রপতি ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বা ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অধ্যাদেশটি জারি করেন। সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে যে তারিখ নির্ধারণ করবে সেদিন থেকে এটি কার্যকর হবে।
উন্মুক্ত দরপত্রে চুক্তি কে পাবেন?
অধ্যাদেশ অনুযায়ী কারিগরিতে উত্তীর্ণদের আর্থিক প্রস্তাব খুলে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতার সাথে চুক্তি হবে। তবে বিধিতে নির্দিষ্ট মূল্যসীমার উপরের ক্রয়ে টেকসইতাসহ কারিগরি মানের স্কোর ও আর্থিক স্কোরের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন হবে।
সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তি কারা?
বৈধ নিবন্ধন বা লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও সুযোগ বা অনুকূল পরিবেশের অভাবে অধ্যাদেশ কার্যকরের আগের সর্বোচ্চ ২০ বছরে কোনো সরকারি ক্রয়ে অংশ নিতে পারেননি বা নেননি এমন ব্যক্তি।
বিদেশি প্রতিষ্ঠান কি এককভাবে দরপত্র দিতে পারবে?
না। প্রাক-যোগ্যতা, আগ্রহব্যক্তকরণ বা দরপত্র ও প্রস্তাবে অংশ নিতে বাংলাদেশি ব্যক্তির সাথে যৌথ উদ্যোগ বাধ্যতামূলক। দেশীয় অংশীদারের ন্যূনতম অংশ বিধিতে নির্ধারিত হবে, এবং বিশেষ ক্রয়ে সরকার শর্ত শিথিল করতে পারবে।
দ্বিতীয় সংশোধনী খসড়ার সাথে এর সম্পর্ক কী?
২৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত দ্বিতীয় সংশোধনী খসড়া এই অধ্যাদেশের প্রায় সব বিধান রেখেছে, আর উন্মুক্ত দরপত্রে সর্বোচ্চ সম্মিলিত স্কোর, ৮০:২০ ওজন ও ±১০% সীমাসহ আরও কিছু পরিবর্তন প্রস্তাব করেছে।

সম্পর্কিত পাতা

তথ্যসূত্র


সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬ · এটি অধ্যাদেশের সারসংক্ষেপ; কার্যকর তারিখের প্রজ্ঞাপন ও পরবর্তী সংশোধনী মিলিয়ে নিন। টেন্ডার জমা দেওয়ার আগে সর্বদা eprocure.gov.bd-এর মূল নথি যাচাই করুন।

রায়হান খান
রায়হান খান
প্রতিষ্ঠাতা · প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ

রায়হান খান গত ১০ বছর ধরে সরকারি ক্রয় ক্ষেত্রে কাজ করছেন — বাংলাদেশজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য টেন্ডার প্রস্তুত, পর্যালোচনা ও জমা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশে ই-প্রকিউরমেন্ট শুরুর একদম প্রথম দিন থেকেই তিনি ই-জিপি সিস্টেমে হাতে-কলমে কাজ করে আসছেন এবং পূর্ববর্তী PPR 2008 থেকে বর্তমান PPR 2025 পর্যন্ত, টেন্ডার ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা, মূল্যায়ন মানদণ্ড, এবং NCT ও ICT উভয় পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে গভীর ব্যবহারিক বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রতিদিন যে অনুসন্ধান-জনিত ঝামেলার মুখোমুখি হতেন, তা দূর করতেই তিনি ই-জিপি বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।

ই-জিপি বাংলা প্রিমিয়াম

আপনার টেন্ডার, দিনে ৩ বার আপনার ইনবক্সে

পছন্দের ক্যাটাগরি, সংস্থা, জেলা ও পদ্ধতি একবার সেট করুন। প্রিমিয়াম সদস্য হলে দিনে ৩ বার (সকাল ৮:৩০, দুপুর ১:৩০ ও সন্ধ্যা ৬:৩০) শুধু আপনার সাথে মিলে যাওয়া নতুন টেন্ডারের ডাইজেস্ট ইমেইলে পৌঁছে যাবে, আর সাইটের সব পাতা হবে বিজ্ঞাপনমুক্ত।